সাধারণত শীতকালে হাত-পা ঠান্ডা হওয়া একটি স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে গরমকালেও এই সমস্যা দেখা যায়, যা প্রায়ই অবহেলিত হয়। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে গরমেও হাত-পা ঠান্ডা থাকলে তা শরীরের কিছু গুরুতর অসুস্থতার সংকেত হতে পারে।
হাত-পা ঠান্ডা হওয়ার কারণ
শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের একটি নিজস্ব প্রক্রিয়া রয়েছে। যখন শরীর ঠান্ডা অনুভব করে, তখন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে উষ্ণ রাখতে হাত-পায়ের দিকে রক্তপ্রবাহ কমিয়ে দেয়। ফলে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যায়। কিন্তু আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও যদি নিয়মিত এ সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে নিচের কারণগুলো বিবেচনা করা উচিত:
রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা
রক্ত সঞ্চালনের সমস্যা হাত-পা ঠান্ডা হওয়ার অন্যতম সাধারণ কারণ। শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্ত ঠিকমতো না পৌঁছালে হাত ও পা ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে। যাদের হৃদযন্ত্র বা রক্তনালির সমস্যা রয়েছে, তাদের মধ্যে এই লক্ষণ বেশি দেখা যায়।
অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা
শরীরে পর্যাপ্ত লোহিত রক্তকণিকা না থাকলে অক্সিজেন সঠিকভাবে পৌঁছাতে পারে না, ফলে ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং হাত-পা ঠান্ডা থাকার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
থাইরয়েডের সমস্যা
হাইপোথাইরয়েডিজমে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, ফলে শরীর কম তাপ উৎপন্ন করে। এতে করে রোগী অন্যদের তুলনায় বেশি ঠান্ডা অনুভব করেন। এর সঙ্গে ওজন বৃদ্ধি, ত্বক শুষ্ক হওয়া, চুলপড়া এবং অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
ডায়াবেটিস
দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত রক্তে শর্করার মাত্রা স্নায়ু ও রক্তনালির ক্ষতি করতে পারে। এর ফলে হাত-পায়ে অসাড়তা, ঝিনঝিনি ভাব এবং ঠান্ডা অনুভূতি তৈরি হতে পারে।
রেনোডস সিনড্রোম
ঠান্ডা আবহাওয়া বা মানসিক চাপের কারণে হাত-পায়ের ছোট রক্তনালিগুলো হঠাৎ সঙ্কুচিত হয়ে যায়। তখন আঙুলের রঙ সাদা বা নীলচে হয়ে যেতে পারে এবং অসাড়তা দেখা দিতে পারে।
মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও উদ্বেগও হাত-পা ঠান্ডা করে দিতে পারে। স্ট্রেসের কারণে শরীরে কিছু হরমোন নিঃসৃত হয়, যা রক্তনালিকে সঙ্কুচিত করে দেয়। ফলে হাত ও পায়ে রক্তপ্রবাহ কমে যায়।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি ঠান্ডা হাত-পায়ের সঙ্গে ব্যথা, অবশভাব, ত্বকের রঙ বদলে যাওয়া, মাথা ঘোরা এবং অতিরিক্ত ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা করলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।



