গরমে সুস্থ থাকতে মোদির পরামর্শ: দেশি শরবতের গুণাগুণ
গরমে সুস্থ থাকতে মোদির পরামর্শ: দেশি শরবতের গুণাগুণ

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ চলছে। তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়ছে, ফলে অনেকেই অসুস্থ হচ্ছেন। চিকিৎসকরা হিটস্ট্রোকের সতর্কতা দিয়েছেন এবং কয়েকটি রাজ্যে হিটস্ট্রোকে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। তাই সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরি। রোদে বেরোনো ছাড়া উপায় নেই, তাই বাইরে থাকলেও শরীর সুস্থ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

মন কি বাতে মোদির পরামর্শ

রেডিও অনুষ্ঠান 'মন কি বাত'-এর ১৩৪তম পর্বে মোদি দেশের নানা প্রান্তের কিছু ঐতিহ্যবাহী পানীয়ের কথা বলেছেন, যা পান করলে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমে। এই শরবতগুলো দোকান থেকে কেনা এনার্জি ড্রিংক নয়, বরং খাঁটি দেশি পানীয়। তালিকায় রয়েছে আমপন্না, বেলের শরবত, পানাকম, কোকাম ও গুড়ের শরবত।

প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই পানীয়গুলো দেশের সংস্কৃতি ও খাদ্য ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন। শুধু তৃষ্ণা মেটায় না, এগুলোর সঙ্গে দেশের নানা প্রান্তের মানুষের আবেগ ও খাদ্যাভ্যাস জড়িত। তাই বাজারচলতি পানীয়ের চেয়ে এগুলো অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। তৈরিতে ভেষজ উপাদান ব্যবহার হয়, ফলে শরীর খারাপ হওয়ার ঝুঁকিও কম।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লস্যি

গরমে গলা ভেজাতে লস্যির বিকল্প নেই। দই দিয়ে তৈরি লস্যিতে থাকা প্রোবায়োটিক হজমে সাহায্য করে। দইয়ে ইলেকট্রোলাইট থাকে, যা শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি। স্বাদে অতুলনীয় এই পানীয় এখন বাঙালিদেরও পছন্দের তালিকায় উঠেছে।

দইয়ের ঘোল

লস্যির চেয়ে হালকা দইয়ের ঘোল। টক দইয়ের সঙ্গে ভাজা জিরেগুঁড়ো, পুদিনাপাতা, বিট লবণ মিশিয়ে তৈরি ঘোল খেলে পেট ভরা থাকে এবং শরীর ভালো থাকে। ঘোল হজমেও সহায়ক। গরমের দিনে দুপুরের খাবারের পর এক গ্লাস ঘোল খাওয়া অত্যন্ত উপকারী।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ছাতুর শরবত

প্রতিদিন সকালের ব্যস্ততায় ভারি খাবার খাওয়ার সময় না থাকলে এক গ্লাস ছাতুর শরবত অনেকক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখে। ছাতুতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, যা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। একসময় রোদে ঘুরে খেটে খাওয়া মানুষের আহার ছিল ছাতুর শরবত, এখন ডায়েট পানীয় হিসেবেও এর নামডাক হয়েছে।

বেলের পানা

বেলের পানার শরবত বহু বছরের ইতিহাস বহন করে। আগে পাকা বেল ফলের শাঁসের সঙ্গে পানি, গোলমরিচ, লবণ, পুদিনাপাতা, চিনি ও লেবুর রস মিশিয়ে তৈরি হতো। এখন লেবু, লবণ আর চিনি মিশিয়ে তৈরি হয়। গরমকালে শরীর ঠান্ডা রাখতে অনেক বাড়িতেই বেলের পানা খাওয়ার চল রয়েছে। কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটফাঁপা ও হজমের সমস্যা সারাতেও এই পানীয় কার্যকর।

কোকাম শরবত

দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে কোকাম ফল শুকিয়ে তার খোসা থেকে শরবত তৈরি করা হয়। সামান্য টক-মিষ্টি এই শরবত পেট ঠান্ডা রাখে। এতে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা গরমে শরীরের ক্লান্তি দূর করে।

আমপন্না

অরুচিতে রুচি ফেরায় আমপন্না। গরমে পেট ঠান্ডা করে। দেশের নানা প্রান্তে আমপ্রেমীদের অতি পছন্দের পানীয় আমের পানা বা পন্না। কাঁচা আমবাটা, নানা মসলা, পুদিনাপাতা, চিনি বা গুড় মিশিয়ে তৈরি আমপন্না ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমায়।

পানাকম শরবত

পানাকম পানীয় দেবতার ভোগে অর্পণ করা হয়। চৈত্র-বৈশাখের প্রখর গরমে এই পানীয় নিমেষে শীতল করতে পারে শরীর ও মন। এর ঔষধি গুণও কম নয়। গুড়, পানি, লেবুর রস ও এলাচ বা আদা মিশিয়ে তৈরি পানীয়টি পিত্তদোষ দূর করতে এবং হজমের সমস্যা মেটাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।