বেঙ্গালুরুতে দম্পতির ট্র্যাজিক আত্মহত্যা: স্বামীর লাশ দেখে স্ত্রীর ঝাঁপ
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুতে এক মর্মান্তিক ঘটনায় এক দম্পতির আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। সোমবার ঘটনাটি ঘটে, যেখানে প্রথমে স্বামী আত্মহত্যা করেন এবং তারপর স্ত্রী একই ভবনের ১৭ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ হারান। পুলিশ এখন এই রহস্যজনক মৃত্যুর তদন্ত শুরু করেছে, যা এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
পুলিশ সূত্র ও ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দম্পতি তেলেঙ্গানা রাজ্যের বাসিন্দা ছিলেন এবং বেঙ্গালুরুর একটি বহুতল আবাসিক ভবনে বসবাস করতেন। স্বামী ভানু চন্দর রেড্ডি কুন্টা, যিনি ৩২ বছর বয়সী ছিলেন, তিনি সোমবার নিজের ঘরে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। মাত্র কয়েক মিনিট পর, তার স্ত্রী বিবি সাজিয়া সিরাজ, যিনি ৩১ বছর বয়সী এবং আইবিএমে কর্মরত ছিলেন, ভবনের ১৭ তলা থেকে নিচে ঝাঁপ দেন।
ঘটনার শুরুতে, সাজিয়া দেখতে পান যে তাদের ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করার পরও স্বামীর কোনো সাড়া না পেয়ে, তিনি নিরাপত্তারক্ষী ও প্রতিবেশীদের খবর দেন। এরপর দরজা ভেঙে ভানুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। এই মুহূর্তে স্বামীর নিথর দেহ দেখে সাজিয়া মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি ঝাঁপ দিয়ে দেন, যা ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটায়।
পুলিশের তদন্ত ও রহস্য
একই দিনে দম্পতির এমন আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যু পরিবার ও এলাকাবাসীকে হতবাক করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে, এবং পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে। তবে, এখনো স্পষ্ট নয় যে কী কারণে তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন। পুলিশ এই দম্পতির মধ্যে কোনো পারিবারিক কলহ বা অশান্তি ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখছে।
ভানু চন্দর তেলেঙ্গানার সিদ্দিপেটের বাসিন্দা ছিলেন, এবং সাজিয়া একটি প্রযুক্তি কোম্পানিতে কাজ করতেন। তাদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তদন্ত চলছে, যাতে এই ট্র্যাজেডির পেছনের কারণগুলো উন্মোচিত হতে পারে। পুলিশ আশা করছে যে শীঘ্রই নতুন তথ্য পাওয়া যাবে, যা এই ঘটনাকে স্পষ্ট করতে সাহায্য করবে।
সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া ও শোক
এই ঘটনা বেঙ্গালুরু শহরে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে স্থানীয় সম্প্রদায় ও প্রযুক্তি খাতের কর্মীদের মধ্যে। আত্মহত্যা প্রতিরোধ ও মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে আলোচনা নতুন করে শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মানসিক চাপ ও সম্পর্কের সমস্যাগুলো মোকাবিলায় সহায়তা চাইতে উৎসাহিত করছেন।
পুলিশ এখনো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং পরিবার ও বন্ধুদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। এই মর্মান্তিক ঘটনা স্মরণ করে, সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।



