টম অ্যান্ড জেরি কার্টুন তো সবাই দেখেছে। সেখানে ইঁদুর জেরিকে তাড়া করে বিড়াল টম, আর টমকে তাড়া করে কুকুর স্পাইক। কার্টুন বা গল্পের বইয়ের পাতায় কুকুর ও বিড়ালের এই মারামারি দেখতে দেখতে মনে হতেই পারে, এরা বুঝি জন্ম থেকেই একে অপরের শত্রু। কিন্তু আসলেই কি তাই? তবে মাঝেমধ্যে দেখা যায় কুকুর আর বিড়াল একই পাত্রে খাবার খাচ্ছে। কিংবা শান্তিতে একে অপরের পাশে ঘুমিয়ে আছে? ইন্টারনেটেও কিন্তু এদের বন্ধুত্বের দারুণ সব ছবি আর ভিডিও প্রায়ই দেখা যায়।
তাহলে আসল ঘটনাটা কী?
কুকুর কেন বিড়াল বা অন্য কোনো ছোট প্রাণী দেখলেই ওভাবে ধাওয়া করে? এটা কি শুধুই দুষ্টুমি, নাকি এর পেছনে আছে অন্য কোনো কারণ? আর তোমার পোষা কুকুরটি যদি বিড়াল দেখলেই এমন তাড়া করতে শুরু করে, তবে ওকে শান্ত করার উপায়টাই–বা কী? চলো, আজ জেনে নেওয়া যাক কুকুর আর বিড়ালের এই সম্পর্কের পেছনের কারণ।
পশুচিকিৎসকের মতে, কুকুরের এই তাড়া করার স্বভাবটি মূলত এদের জন্মগত শিকারি প্রবৃত্তির কারণে হয়ে থাকে। কুকুরের পূর্বপুরুষ নেকড়েদের থেকে এই শিকারের স্বভাবটি এদের মধ্যে এসেছে। আর এই কারণে কুকুর সাধারণত যেকোনো ছোট ও দ্রুত চলমান জিনিসকে তাড়া করতে পছন্দ করে। তবে সব জাতের কুকুরের মধ্যে এই প্রবণতা সমান নয়। জার্মান শেফার্ড, ক্যাটল ডগ, রিট্রিভার বা পয়েন্টারের মতো শিকারি ও পশুপালক জাতের কুকুরদের মধ্যে তাড়া করার এই ইচ্ছেটা অনেক তীব্র থাকে।
কুকুর কি বিড়ালকে ঘৃণা করে?
অবশ্য এর মানে এই নয় কুকুর জন্মগতভাবেই বিড়ালকে অপছন্দ বা ঘৃণা করে। আসলে বিড়ালের প্রতি এদের আলাদা কোনো ক্ষোভ নেই। বিড়াল ছাড়াও কাঠবিড়ালি, খরগোশের মতো যেকোনো ছোট প্রাণী, এমনকি ছুড়ে দেওয়া বল বা লাঠির মতো জড় বস্তুকেও কুকুর একই কারণে তাড়া করে থাকে।
কীভাবে কুকুরের এই স্বভাব নিয়ন্ত্রণ করবেন?
কুকুরের জন্মগত স্বভাব পরিবর্তন করা সহজ কাজ নয়। তবে সঠিক চেষ্টায় এটি করা সম্ভব। আর এমন আচরণ করার মানে এই নয় কুকুরটি খারাপ। পশুচিকিৎসকের মতে, বিড়াল বা অন্য কোনো প্রাণীকে তাড়া করার সময় কুকুরের মনে যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়, তার ওপর আসলে কুকুরটির নিজের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তবে নিয়ন্ত্রণ থাকে না বলে এটিকে এভাবে চলতে দেওয়াও ঠিক হবে না।
কুকুর যদি নিয়মিত বিড়াল, কাঠবিড়ালি বা খরগোশকে তাড়া করে ও এটি বড় সমস্যা তৈরি করে, তবে একজন প্রাণী আচরণ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়া উচিত। কারণ, একা একা এই সমস্যার সমাধান করা বেশ কঠিন। প্রাথমিক চেষ্টা হিসেবে, কোনো জীবন্ত প্রাণীকে তাড়া না করিয়ে কুকুরটির এই দৌড়ানোর স্বভাবকে খেলনার দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তারপরেও যদি সমস্যা থেকেই যায়, তবে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। তাড়া করার এই তীব্র অনুভূতি কুকুর নিজে নিজে কাটিয়ে উঠতে পারে না। তাই তাকে এই পরিস্থিতি সামলাতে সাহায্য করার জন্য বাড়তি যত্ন ও বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়।
একসঙ্গে বিড়াল ও কুকুর পালা
তুমি কি একই সঙ্গে একটি বিড়াল আর একটি কুকুর পুষতে চাও? অথবা তোমার ঘরে একটি আছে, এখন অন্য আরেকটি আনার কথা ভাবছ? কার্টুনের মারামারি দেখে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। সঠিক নিয়ম মেনে চললে এদের একসঙ্গে রাখা সম্ভব।
তবে সব জাতের কুকুর বা বিড়ালের স্বভাব এক রকম হয় না। বিড়ালের এমন কিছু প্রজাতি আছে, যারা কুকুরের সঙ্গে খুব সহজেই মিলেমিশে থাকতে পারে। পছন্দের পোষা প্রাণীটির স্বভাব কেমন, তা বুঝতে চাইলে কোনো পশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারো।
মনে রাখবে, মানুষের মতোই প্রাণীদের ক্ষেত্রেও প্রথম দেখার ব্যাপারটা খুব জরুরি। তাই নতুন অতিথিকে ঘরে এনেই হুট করে পুরোনো পোষা প্রাণীটির সামনে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। এদের পাকাপাকিভাবে একসঙ্গে রাখার আগে কয়েক দিন ধরে অল্প সময়ের জন্য মুখোমুখি করতে হবে। একে বলে পরিচিতি পর্ব।
চেষ্টাই পাশাপাশি বিড়াল আর কুকুরগুলো একটা সময় নিজেরাই নিজেদের বোঝাপড়া করে নেয়। বিড়ালটি নিজেই কুকুরটিকে বুঝিয়ে দেবে যে ওর সীমানা কতটুকু এবং কোনো সীমা পার হওয়া যাবে না। এভাবেই ধীরে ধীরে এরা একসঙ্গে থাকা শেখে।
সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট



