চবি ক্যাম্পাসে ৮ ফুট লম্বা বিষধর কিং কোবরা উদ্ধার: পাহাড়ে আগুন ও আগাছানাশকের প্রভাব
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাস থেকে একটি বিরল ও বিপজ্জনক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে প্রায় আট ফুট লম্বা একটি বিষধর কিং কোবরা সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনাটি শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের পেছনের স্টাফ কলোনির একটি বাসা থেকে সংঘটিত হয়। সাপটি উদ্ধার করা হয়েছে স্নেক অ্যান্ড স্নেকবাইট অ্যাওয়ারনেস (থ্রিএসএ) নামক একটি সচেতনতামূলক সংগঠনের সদস্যদের দ্বারা, যারা সাপ ও সাপের দংশন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে।
উদ্ধার প্রক্রিয়া ও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং থ্রিএসএ সাপ উদ্ধার দলের উপদেষ্টা ড. ইব্রাহীম আল হায়দার জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খবর পাওয়ার পর মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। বাসাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারীর ছিল, এবং সাপটি ওই বাসার শৌচাগারের স্লাবের নিচে আশ্রয় নিয়েছিল। পরে স্লাব ভেঙে সেটিকে সাবধানে উদ্ধার করা হয়।
ড. ইব্রাহীম আল হায়দার বলেন, "এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বিষধর সাপের অন্যতম একটি প্রজাতি। বর্তমানে সাপটি থ্রিএসএ দলের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। এখনো সেটিকে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হয়নি। প্রয়োজন হলে এটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের বিষ গবেষণা কেন্দ্রে পাঠানো হতে পারে। অন্যথায় ক্যাম্পাসের গহীন বনে অবমুক্ত করা হবে।"
কিং কোবরার উপস্থিতি ও পরিবেশগত প্রভাব
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় কিং কোবরার উপস্থিতি আগে থেকেই রয়েছে। তবে এই সাপ সাধারণত মানুষের কোলাহল এড়িয়ে চলে এবং লাজুক স্বভাবের। সাম্প্রতিক সময়ে দুটি প্রধান কারণে তারা পাহাড়ি এলাকা থেকে নিচে নেমে আসছে:
- পাহাড়ে আগুন লাগানো, যা তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস করছে।
- অতিরিক্ত আগাছানাশক ব্যবহারের ফলে তাদের স্বাভাবিক বাসস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এই পরিবেশগত পরিবর্তনগুলি সাপের মতো বন্যপ্রাণীদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে, যার ফলে তারা মানুষের বসতির কাছাকাছি চলে আসতে বাধ্য হচ্ছে। ড. হায়দার সতর্ক করে বলেন যে, এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে যদি না পরিবেশ সংরক্ষণে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
চবি ক্যাম্পাসে এই কিং কোবরা উদ্ধার একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে, যা পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উচিত এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যাতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাত কমে আসে।



