জাতীয় ছুটির দিনেও ঢাকার বাতাস অস্বাস্থ্যকর, বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে
প্রতিনিয়ত বেড়ে চলা বায়ুদূষণ রাজধানী ঢাকাকে ক্রমেই মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় প্রায়ই শীর্ষ দশে জায়গা করে নেয় এই শহর। আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় ছুটির দিনেও তার ব্যতিক্রম হয়নি—বিশ্বের ১১৯টি শহরের মধ্যে বায়ুর মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে থেকে ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
বায়ুমানের সূচকে ঢাকার স্কোর ১৯৪
সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে বায়ুমানের সূচকে ঢাকার স্কোর ছিল ১৯৪, যা শহরটিকে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রেখেছে। বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা আইকিউএয়ার-এর সূচক থেকে এ তথ্য জানা গেছে। এই স্কোরটি নির্দেশ করে যে ঢাকার বাতাসের গুণমান জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশ্বের অন্যান্য শহরের অবস্থান
ভারতের দিল্লি, থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই ও ভিয়েতনামের হ্যানয় যথাক্রমে ২১০, ১৭০ ও ১৬৫ একিউআই স্কোর নিয়ে তালিকার প্রথম, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে। একিউআই সূচক ৫টি প্রধান দূষণের ওপর নির্ভরশীল। সেগুলো হলো- অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাইঅক্সাইড (এসও২) ও ওজোন।
দীর্ঘমেয়াদী বায়ুদূষণ সমস্যা
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ুদূষণজনিত সমস্যায় জর্জরিত। এর বায়ুর গুণমান সাধারণত শীতকালে অস্বাস্থ্যকর হয়ে ওঠে এবং বর্ষাকালে কিছুটা উন্নত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, বায়ু দূষণের কারণে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়, যা একটি ভয়াবহ জনস্বাস্থ্য সংকট।
আন্তঃদেশীয় দূষণের প্রভাব
বাংলাদেশের মোট বায়ুদূষণের ৩৫ শতাংশই আশপাশের দেশগুলো থেকে আসছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যা আন্তঃদেশীয় দূষণ নামে পরিচিত। এই দূষণ ঢাকার বায়ুর মানকে আরও খারাপ করে তুলছে এবং স্থানীয় উৎসের পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা ছাড়া এ সমস্যা সমাধান কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখযোগ্য। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে ঢাকার বায়ুদূষণ সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।



