বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা অষ্টম স্থানে
বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকা সোমবার সকালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় অষ্টম স্থান দখল করেছে। সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে শহরের বায়ুর মান সূচক বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) রেকর্ড করা হয়েছে ১৪৫, যা বায়ুদূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে বলে নির্দেশ করে।
বায়ুদূষণের শ্রেণীবিভাগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
একিউআই স্কেল অনুযায়ী, ১৪৫ স্কোরের বায়ুকে 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে। এর অর্থ হলো, এই মাত্রার বায়ুদূষণ শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদরোগের মতো স্বাস্থ্য সমস্যাযুক্ত মানুষদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বায়ুর মান সূচকের মাপকাঠি অনুসারে, ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরের মধ্যে থাকা বায়ু 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর' বিবেচিত হয়। ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর 'অস্বাস্থ্যকর', ২০১ থেকে ৩০০ 'অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর' এবং ৩০১-এর উপরের যেকোনো স্কোর 'বিপজ্জনক' হিসেবে চিহ্নিত হয়, যা গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
বিশ্বের শীর্ষ দূষিত শহরগুলো
সোমবার সকালের তালিকায় ভারতের দিল্লি, ভিয়েতনামের হ্যানয় এবং পাকিস্তানের লাহোর বিশ্বের তিনটি সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করেছে। এই শহরগুলোর একিউআই স্কোর যথাক্রমে ২১০, ১৮৫ এবং ১৭৮ রেকর্ড করা হয়েছে, যা ঢাকার চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দূষণের মাত্রা নির্দেশ করে।
বাংলাদেশে বায়ুদূষণ পরিমাপের পদ্ধতি
বাংলাদেশে বায়ুর মান সূচক মূলত পাঁচটি প্রধান দূষণকারী উপাদানের ভিত্তিতে পরিমাপ করা হয়। এই উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে পার্টিকুলেট ম্যাটার (পিএম১০ এবং পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাইঅক্সাইড এবং ওজোন। একিউআই দৈনিক বায়ুর গুণমান পরিমাপ করে, যা বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত এবং জনগণ কী ধরনের স্বাস্থ্যগত প্রভাব অনুভব করতে পারে তা প্রদর্শন করে।
ঢাকায় দীর্ঘমেয়াদী বায়ুদূষণের সমস্যা
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর বায়ুদূষণের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। শহরের বায়ুদূষণের পরিস্থিতি সাধারণত শীতকালে আরও খারাপ হয় এবং বর্ষা মৌসুমে কিছুটা উন্নতি দেখা যায়। তবে সামগ্রিকভাবে শহরের বায়ুর গুণমান নিয়মিতভাবে উদ্বেগজনক পর্যায়ে থাকে, যা নাগরিকদের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বায়ুদূষণ বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় সাত মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে স্ট্রোক, হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের রোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র সংক্রমণ। সংস্থাটি বায়ুদূষণকে একটি গুরুতর বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং উন্নত বায়ুর গুণমান নিশ্চিত করার জন্য জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে।
ঢাকার বায়ুদূষণের বর্তমান পরিস্থিতি শহরের পরিবেশগত চ্যালেঞ্জগুলোর একটি স্পষ্ট উদাহরণ। বিশেষজ্ঞরা নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে বায়ুর গুণমানের উন্নতি ঘটানো যায়।



