পঞ্চগড়ে চৈত্র মাসে ঘন বাষ্পীয় কুয়াশার অস্বাভাবিক আবহাওয়া
এক সপ্তাহ ধরে পঞ্চগড় জেলায় ‘বাষ্পীয় কুয়াশা’ বিরাজ করছে, যা চৈত্র মাসের স্বাভাবিক গরম ও কাঠফাটা রোদের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে। জেলার প্রবীণরা জানাচ্ছেন, তাদের জীবনে এই সময়ে এমন ঘন কুয়াশা আগে কখনও দেখেননি। সকালে ঘুম থেকে উঠেই চোখে পড়ছে ঘন কুয়াশা, যা গাছপালা, মাঠ-ঘাট সবকিছু ঢেকে দিচ্ছে, সঙ্গে বয়ে যাচ্ছে শীতল বাতাস।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞের ব্যাখ্যা
তেতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায়ের মতে, গত এক সপ্তাহ ধরে পঞ্চগড়ে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে ১৮ থেকে ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে, যেখানে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২২ থেকে ২৫ ডিগ্রি পর্যন্ত উঠছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়া, দিন ও রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়া, জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং দ্রুত ঘনীভূত হওয়ার কারণে এই ঘন কুয়াশা দেখা দিচ্ছে, যা মূলত বাষ্পীয় কুয়াশা হিসেবে পরিচিত।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া
জেলা শহরের ডোকড়ো পাড়া এলাকার ষাটোর্ধ্ব তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘জীবনে আমি এমন আবহাওয়া দেখিনি। চৈত্র মাসের গরমে যেখানে সহ্য করা মুশকিল হয়ে পড়ে, সেখানে কাথা-কম্বল গায়ে নিয়ে রাতে ঘুমাতে হচ্ছে।’ শহরের মসজিদপাড়া এলাকার নারী শ্রমিক সফিজা বেগম যোগ করেন, ‘সকাল থেকে ঘন কুয়াশা, মাঝে মাঝে বাতাস বয়ে যাচ্ছে। সকালে বের হলে গরম কাপড় পরতে হয়।’ পরিবহন শ্রমিক সাইফুল ইসলামও অবাক হয়ে বলেন, ‘চৈত্র মাসে ঘন কুয়াশার কারণে হেডলাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চলাচল এবারই প্রথম দেখলাম।’
স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব
আবহাওয়ার এই অস্বাভাবিক পরিবর্তনে নানান রোগবালাই দেখা দিচ্ছে, যা স্থানীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও একই চিত্র দেখা গেছে, যেখানে কুয়াশা কেটেছে সকাল ১১টার পর। আজ শুক্রবারও একই রকম আবহাওয়া বিরাজ করছে, এবং কখন সূর্যের মুখ দেখা যাবে তা অনিশ্চিত। রাস্তাঘাটে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে, যা এই মৌসুমে অপ্রত্যাশিত।
এই অবস্থা স্থানীয় কৃষি ও অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। সাধারণত চৈত্র মাসে প্রচণ্ড গরম ও রোদের তাপে মানুষ হাঁসফাঁস করে, কিন্তু এবার ঠান্ডা ও কুয়াশা সবাইকে অবাক করে দিয়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখা যাচ্ছে।



