মুন্সিগঞ্জে পরিযায়ী পাখি শিকার: অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাসহ ছয়জনকে জরিমানা
মুন্সিগঞ্জে পাখি শিকার: ছয়জন জরিমানা, অস্ত্র জব্দ

মুন্সিগঞ্জে পরিযায়ী পাখি শিকার: অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাসহ ছয়জনকে জরিমানা

মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় সাত বস্তা মৃত পরিযায়ী পাখি শিকার করে স্থানীয় জনতা কর্তৃক আটক ছয় ব্যক্তিকে জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলার মাথাভাঙ্গা এলাকা থেকে পাখি ও অস্ত্রগুলো জব্দ করা হয়। শুক্রবার মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আ স ম হাদিউল ইসলাম ভূঁইয়া (৮১), আবরার উদ্দিন আহমেদ (৭০), হাজী ওসমান আলী (৭৭), মাজহারুল হক কোরেশী (৭০), আবদুল্লাহ নূর (৭২) এবং আরিক আহমেদ (২৭) নামে ছয় ব্যক্তি বৃহস্পতিবার ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রাইভেট কারে করে গজারিয়া আসেন। তাঁরা ট্রলারে করে গজারিয়ার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্দুক দিয়ে গুলি করে প্রায় ৪ মণ পরিযায়ী পাখি শিকার করেন।

বৃহস্পতিবার রাতে পাখি শিকার শেষে তাঁরা একসঙ্গে ফিরছিলেন। মাথাভাঙ্গা এলাকায় এলে স্থানীয় জনতা তাঁদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাঁদের উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রশাসনের ব্যবস্থা

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। সে সময় ওই ছয়জন তাঁদের অপরাধ স্বীকার করেন। তাঁদের বয়স বিবেচনা করে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে এক লাখ এবং অন্য পাঁচজনকে ৩০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে পাখি শিকারে ব্যবহৃত তিনটি শটগান, একটি এয়ারগান এবং ৬৩ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবেশগত প্রভাব

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, এক দিনেই কয়েক হাজার পরিযায়ী পাখি শিকার করা হয়েছে। এর আগে কত হয়েছে, জানা নেই। এভাবে পাখিনিধন পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, পরিযায়ী পাখি শিকার বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে এবং স্থানীয় প্রজাতিগুলোর উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

এই ঘটনা মুন্সিগঞ্জ জেলায় বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনের প্রয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হয়েছে, যা অন্যান্য অঞ্চলের জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দারা পাখি শিকার বিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছেন।