বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা পঞ্চম স্থানে, এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ১৬৪
দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা পঞ্চম, এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ১৬৪

বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা পঞ্চম স্থানে

বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকা বুধবার সকালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে। সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে শহরটির এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) রেকর্ড করা হয়েছে ১৬৪।

'অস্বাস্থ্যকর' শ্রেণিভুক্ত ঢাকার বায়ু

একিউআই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা শহরের বায়ু 'অস্বাস্থ্যকর' শ্রেণিতে স্থান পেয়েছে, যা একটি গুরুতর স্বাস্থ্য হুমকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই মাত্রার বায়ু দূষণ শহরবাসীর জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।

শীর্ষ দূষিত শহরের তালিকা

ভারতের দিল্লি, চীনের বেইজিং এবং পাকিস্তানের লাহোর যথাক্রমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান দখল করেছে এই তালিকায়। তাদের একিউআই স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে যথাক্রমে ২৪৮, ২৩৩ এবং ১৮৬।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

একিউআই স্কেলের ব্যাখ্যা

একিউআই স্কেল অনুসারে, ৫০ থেকে ১০০ পর্যন্ত রিডিং 'মডারেট' বা মাঝারি হিসেবে বিবেচিত হয়, যা সাধারণভাবে গ্রহণযোগ্য বায়ু মান নির্দেশ করে, যদিও সংবেদনশীল ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা সীমিত করা উচিত।

  • ১০১–১৫০ একিউআই মাত্রা 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর'
  • ১৫১–২০০ একিউআই মাত্রা 'অস্বাস্থ্যকর'
  • ২০১–৩০০ একিউআই মাত্রা 'অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর'
  • ৩০১-এর উপরের রিডিং 'বিপজ্জনক' হিসেবে বিবেচিত হয়, যা গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে

একিউআই কীভাবে কাজ করে?

এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স দৈনিক বায়ু মানের প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যা বাসিন্দাদের জানায় বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্য প্রভাবগুলি তুলে ধরে। বাংলাদেশে, একিউআই পাঁচটি প্রধান দূষণকারীর উপর ভিত্তি করে গণনা করা হয়: পার্টিকুলেট ম্যাটার (পিএম১০ এবং পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাইঅক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী বায়ু দূষণ সমস্যা

ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণের সাথে সংগ্রাম করছে। শহরের বায়ুর মান সাধারণত শীতকালে খারাপ হয় এবং বর্ষা মৌসুমে কিছুটা উন্নতি লক্ষ্য করা যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অনুমান অনুযায়ী, বায়ু দূষণ বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় সাত মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই মৃত্যুগুলির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকার বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। শহরের ক্রমবর্ধমান যানবাহন, নির্মাণ কাজ, শিল্পকারখানা এবং অন্যান্য উৎস থেকে নির্গত দূষণকারী পদার্থ নিয়ন্ত্রণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।