নোয়াখালীতে ববিতা রানীর জীবনযুদ্ধ: পানির জন্য প্রতিদিনের সংগ্রাম
নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার চর আমানউল্যাহ গ্রামে ববিতা রানী সূত্রধর প্রায় চার বছর ধরে বসবাস করছেন। এর আগে তিনি একই জেলার হাতিয়া উপজেলায় থাকতেন, কিন্তু নদীভাঙনের কবলে পড়ে বাস্তুচ্যুত হন। সেই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে তিনি এই গ্রামে জমি কিনে বাড়ি তৈরি করেছেন, কিন্তু এখানে এসে পানির সংকট তার জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে পানির দুর্ভোগ
ববিতা রানীর পরিবারে দুই মেয়ে, এক ছেলে এবং স্বামী বিশ্বরূপ দাশ রয়েছেন। স্বামী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাটের একটি করাতকলে চাকরি করেন, তাই বাড়ির সব দায়িত্ব ববিতা রানীর কাঁধে। তিনি গৃহস্থালির কাজ, সন্তানদের লেখাপড়া, গোসল করানো, হাঁস-মুরগি লালনপালন এবং রান্নাবান্না দেখভাল করেন।
গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ববিতা রানী বাড়ির ভেতরের ছোট্ট পুকুরের ঘোলা ও নোংরা পানিতে কাপড় কাচছিলেন। তিনি জানান, এই পানিই তার রান্নাবান্না, গোসল এবং অন্যান্য কাজে ব্যবহৃত হয়। অনেক দিন বৃষ্টি না হওয়ায় পুকুরের পানি তলানিতে পৌঁছেছে এবং শীঘ্রই পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পানির জন্য দূরের পথ পাড়ি
শুষ্ক মৌসুমের শুরুতে পুকুর ও ডোবার পানি শুকিয়ে যায়, এবং এলাকার টিউবওয়েলগুলোতেও পানি ওঠে না। ফলে ববিতা রানীকে খাওয়ার পানি আনতে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরের এক বাড়িতে বসানো শ্যালো পাম্পে যেতে হয়। এই কাজে প্রতিদিন তার অনেক সময় ব্যয় হয়, যা তার দৈনন্দিন কাজকর্মকে ব্যাহত করে।
ববিতা রানী বলেন, "হাতিয়ায় নদীভাঙনের পর এখানে এসে একটু সুখের আশা করেছিলাম, কিন্তু এখানে সংকট দ্বিগুণ হয়েছে। বর্ষায় জলাবদ্ধতা আর শুষ্ক মৌসুমে পানিশূন্যতা আমাদের নিত্যসঙ্গী।"
জলাবদ্ধতা ও পানিশূন্যতার চক্র
বর্ষাকালে পানি যাওয়ার পথ না থাকায় চর আমানউল্যাহ গ্রামে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়, যা স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। অন্যদিকে, মার্চ মাসের শেষ দিক থেকে শুষ্ক মৌসুম শুরু হলে পুকুরের পানি শুকিয়ে যায়, এবং পানির উৎসগুলো নিঃশেষ হয়ে পড়ে। এই চক্রাকার সমস্যা গ্রামবাসীর জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।
ববিতা রানীর মতো অনেক পরিবার এই সংকট মোকাবিলা করছেন, কিন্তু স্থায়ী সমাধানের অভাবে তাদের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও পানির ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।



