পটিয়ার কোলাগাঁওয়ে পানির সংকট: নারীদের দুর্ভোগের চিত্র
পটিয়ায় পানির সংকটে নারীদের দুর্ভোগ

পটিয়ার কোলাগাঁও ইউনিয়নে পানীয় জলের চরম সংকট

চট্টগ্রাম বিভাগের পটিয়া উপজেলার কোলাগাঁও ইউনিয়নের মোহাম্মদনগর কাজীবাড়ি এলাকায় বহু বছর ধরে পানীয় জলের তীব্র সংকট বিরাজ করছে। এই সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হচ্ছেন স্থানীয় নারীরা, যাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন এই সমস্যার কারণে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

জরিনা বেগমের কষ্টের গল্প

জরিনা বেগম (৩৫) এই এলাকার একজন বাসিন্দা, যিনি রংমিস্ত্রি মৃত মোহাম্মদ শাহ আলমের স্ত্রী। ১৩ মার্চ বেলা আড়াইটার দিকে গ্রামীণ সড়কের পাশে একটি প্রাচীরের সঙ্গে লাগানো সরু ট্যাপ থেকে ধীরে ধীরে পানি পড়ছিল। সেখানে দাঁড়িয়ে কলসি ভরছিলেন জরিনা বেগম, যিনি তাঁর বাবার বাড়িতে বসবাস করেন। তাঁর ১৯ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে পাশের একটি কারখানায় চাকরি করে সংসার চালাতে সাহায্য করছেন।

জরিনা বেগম জানান, প্রায় ২০ বছর আগে তাঁদের বাড়ির পাশে নলকূপ ছিল এবং পানির জন্য কোনো কষ্ট ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে এলাকার নলকূপগুলোতে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, আশপাশে কয়েকটি কারখানায় গভীর নলকূপ বসানোর পর থেকেই ভূগর্ভে পানির স্তর নিচে নেমে গেছে, যা এই সংকটের মূল কারণ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পানির উৎসের পরিবর্তন

পানির সংকট শুরু হওয়ার পর পাশের একটি বাড়িতে গভীর নলকূপ বসানো হয়েছিল, কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকলে বা মোটর চালু করা না হলে পানির জন্য বড় সমস্যায় পড়তে হতো বাসিন্দাদের। পাঁচ-সাত বছর আগে পাশের একটি কারখানা থেকে সরু প্লাস্টিকের পাইপ টেনে সড়কের পাশে একটি প্রাচীরের সঙ্গে দুটি ছোট ট্যাপ বসানো হয়। বর্তমানে পুরো পাড়ার প্রায় ৫০টি পরিবার এই ট্যাপের পানির ওপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

জরিনা বেগম বলেন, ‘বাড়ির কাছে হলেও অনেক সময় এসে দেখি পানি পড়ছে না। তখন আবার ফিরে যেতে হয়। আবার কিছুক্ষণ পর এসে দেখি একটু একটু করে পানি পড়ছে।’ এই অবস্থা স্থানীয় নারীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে, যারা প্রতিদিন পানির জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এলাকার সামগ্রিক প্রভাব

এই পানির সংকট শুধু নারীদেরই নয়, পুরো এলাকার বাসিন্দাদের জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় কৃষিকাজ ও অন্যান্য দৈনন্দিন কাজেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন যে, যদি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

বিশ্ব পানি দিবসের প্রেক্ষাপটে এই সংকট আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যা চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যান্য এলাকার জন্যও একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও টেকসই সমাধান এই এলাকার বাসিন্দাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।