বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় সপ্তম স্থানে ঢাকা
রবিবার সকালে ঢাকা শহর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় সপ্তম স্থান অধিকার করেছে। সকাল ১০টা ৫৬ মিনিটে ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) রেকর্ড করা হয়েছে ১৩৪, যা 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর' হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ। এই মাত্রা স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
শীর্ষ তিনে দিল্লি, বেইজিং ও কিনাশা
বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষ তিনটি স্থান দখল করেছে ভারতের দিল্লি, চীনের বেইজিং এবং গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের কিনাশা। দিল্লির একিউআই স্কোর ১৯২, বেইজিংয়ের ১৭০ এবং কিনাশার ১৬৭ রেকর্ড করা হয়েছে। এই শহরগুলোর বায়ু মান 'অস্বাস্থ্যকর' থেকে 'খুব অস্বাস্থ্যকর' পর্যায়ে রয়েছে।
একিউআই স্তর ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের স্তর অনুযায়ী, ১০১ থেকে ১৫০ পর্যন্ত 'সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর', ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত 'অস্বাস্থ্যকর', ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত 'খুব অস্বাস্থ্যকর' এবং ৩০১-এর উপরের রিডিং 'বিপজ্জনক' হিসেবে বিবেচিত হয়। উচ্চতর একিউআই স্তর গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।
বাংলাদেশে একিউআই গণনা পদ্ধতি
বাংলাদেশে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স গণনা করা হয় পাঁচটি প্রধান দূষণকারী পদার্থের ভিত্তিতে। এগুলো হলো: পার্টিকুলেট ম্যাটার (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাইঅক্সাইড (এসও২) এবং ওজোন। দৈনিক বায়ুর গুণমান প্রতিবেদন করে একিউআই, যা বাসিন্দাদের জানায় বায়ু কতটা পরিষ্কার বা দূষিত এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্য প্রভাবগুলো তুলে ধরে।
ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী বায়ু দূষণ সমস্যা
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে বায়ু দূষণের সমস্যার সাথে সংগ্রাম করছে। সাধারণত শীতকালে বায়ুর গুণমান খারাপ হয় এবং বর্ষা মৌসুমে কিছুটা উন্নতি দেখা যায়। শহুরে উন্নয়ন, যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পকারখানার নির্গমন এবং নির্মাণ কাজের ধুলা ঢাকার বায়ু দূষণের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বায়ু দূষণ বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় সাত মিলিয়ন মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই মৃত্যুর প্রধান কারণগুলো হলো স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বায়ু দূষণের প্রভাব বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন। সরকারি নীতিমালা, গণসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এই সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিক থেকে বায়ুর গুণমান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।



