ঈদে জনশূন্য ঢাকাতেও কমেনি বায়ুদূষণ, বিশ্বের শীর্ষ দূষিত শহরের তালিকায় চতুর্থ
ঈদে জনশূন্য ঢাকাতেও কমেনি বায়ুদূষণ, বিশ্বের তালিকায় চতুর্থ

ঈদের ছুটিতে জনশূন্য ঢাকাতেও বায়ুদূষণের কোনো উন্নতি হয়নি

ঈদের ছুটিতে রাজধানী ঢাকা থেকে লাখো মানুষ গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাওয়ায় শহরটি প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। সড়কে যানবাহন চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে এবং স্বাভাবিক দিনের মতো যানজটের দৃশ্য দেখা যায়নি। তবে এই জনশূন্যতা সত্ত্বেও বায়ুদূষণের মাত্রায় কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। রোববার সকালেও রাজধানীর বাতাস অস্বাস্থ্যকর অবস্থায় রয়ে গেছে, যা পরিবেশগত উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইকিউএয়ারের সূচকে ঢাকার অবস্থান

রোববার, ২২ মার্চ, সকাল ৮টার দিকে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা আইকিউএয়ারের সূচক থেকে জানা যায় যে ঢাকার বায়ুদূষণ এখনও বিপজ্জনক পর্যায়ে রয়েছে। সংস্থার তথ্য অনুসারে, আজ বিশ্বের বায়ুদূষণের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ভারতের রাজধানী দিল্লি, যার দূষণ স্কোর ১৯৩। এর অর্থ হলো দিল্লির বাতাস অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীনের রাজধানী বেইজিং, যার স্কোর ১৭৮, যা স্পষ্টতই অস্বাস্থ্যকর। তৃতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচিওন শহর, যার স্কোর ১৭৪।

এ তালিকায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। ঢাকার বায়ুর মানের স্কোর ১৬৫, যা অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত। এই স্কোরটি নির্দেশ করে যে শহরের বাতাসে দূষণকারী পদার্থের মাত্রা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশ্বের স্বাস্থ্যকর বায়ুর শহরগুলো

অন্যদিকে, স্বাস্থ্যকর বায়ুর তালিকায় আজ বিশ্বে শীর্ষ দুটি শহরই যুক্তরাষ্ট্রের। তালিকার প্রথমে রয়েছে ডেনভার শহর, যার স্কোর মাত্র ৩৯। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সিকাগোর স্কোর ৪২। বায়ুর মান সূচক অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে স্কোর থাকলে তা ভালো বা স্বাস্থ্যকর হিসেবে ধরা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা সহনীয় মাত্রার দূষণ বিবেচনা করা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ হলে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত সাধারণভাবে অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১-এর বেশি হলে তা দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

ঢাকার স্কোর ১৬৫ হওয়ায় এটি অস্বাস্থ্যকর বিভাগে পড়ছে, যা শহরের বাসিন্দাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে শুধু যানবাহন কমলেই বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; নির্মাণ কাজ, শিল্পকারখানা এবং অন্যান্য দূষণকারী উৎসগুলোর উপরও নজর দিতে হবে।