ঈদের ছুটিতে ঢাকার বাতাসের মান: বৃষ্টি ও জনশূন্যতা সত্ত্বেও দূষণে দশম স্থান
ঈদে ঢাকার বাতাসের মান: বৃষ্টি সত্ত্বেও দূষণে দশম স্থান

ঈদের ছুটিতে ঢাকার বাতাসের মান: বৃষ্টি ও জনশূন্যতা সত্ত্বেও দূষণে দশম স্থান

ঈদুল ফিতরের ছুটিতে রাজধানী ঢাকা গত কয়েক দিন ধরে অস্বাভাবিকভাবে ফাঁকা ছিল। বিপুলসংখ্যক মানুষ ছুটি কাটাতে শহরের বাইরে চলে যাওয়ায় যানবাহনের দাপট ও কলকারখানার কার্যক্রম প্রায় বন্ধ ছিল। এ অবস্থায় গতকাল শুক্রবার বেলা ১১টার পর থেকে বিকেল পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার পরও ঢাকার বাতাসের মান আশানুরূপ উন্নতি হয়নি।

বায়ুদূষণের বর্তমান অবস্থা

আজ শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১২১টি শহরের মধ্যে বায়ুদূষণে ঢাকার অবস্থান দশম। ঢাকার সার্বিক বায়ুর মান ১১৭ রেকর্ড করা হয়েছে, যা সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত। এই গোষ্ঠীতে বয়স্ক ব্যক্তি, অসুস্থ, গর্ভবতী নারী ও শিশুরা অন্তর্ভুক্ত।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৯ সালে বাংলাদেশে বায়ুদূষণের কারণে প্রায় দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং মোট দেশজ উৎপাদনের ক্ষতি প্রায় ৮ শতাংশ হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঢাকার দূষণের উৎস ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ

ঢাকার বায়ুদূষণের প্রধান দুই উৎস—যানবাহন ও কলকারখানা—ঈদের ছুটিতে প্রায় বন্ধ থাকলেও দূষণের মাত্রা কমেনি। গতকাল রাজধানীতে ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, কিন্তু তা দূষণ হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।

বিশ্বের অন্যান্য শহরের তুলনায়:

  • কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের রাজধানী কিনসাসা বায়ুদূষণে শীর্ষে রয়েছে, যার বায়ুমান ১৭৩।
  • ঢাকার বেচারাম দেউড়ি এলাকায় বায়ুমান ১৫১ রেকর্ড করা হয়েছে, যা শহরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকা প্রায় পুরো সময় বায়ুদূষণে শীর্ষে ছিল, এবং মার্চ মাসের শুরুতেও এই প্রবণতা অব্যাহত ছিল। যদিও বর্তমানে ঢাকার বায়ুর মান গত মাসের তুলনায় কিছুটা উন্নত হয়েছে, কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য দেশের বায়ুর মানের উন্নতির তুলনায় এটি অপ্রতুল বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নগরবাসীর জন্য স্বাস্থ্য পরামর্শ

আইকিউএয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী, বর্তমান বায়ুর মানে ঢাকাবাসীকে নিম্নলিখিত সতর্কতা মেনে চলতে হবে:

  1. সংবেদনশীল গোষ্ঠীর মানুষদের বাইরে বের হলে মাস্ক পরা আবশ্যক।
  2. বাড়ির বাইরে গিয়ে ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলতে হবে।
  3. ঘরের জানালাগুলো যতটা সম্ভব বন্ধ রাখতে হবে দূষিত বাতাস প্রবেশ রোধ করতে।

পরিবেশবিদরা মনে করছেন, ঈদের ছুটিতে দূষণের উৎস কমে যাওয়া সত্ত্বেও বায়ুর মানের উন্নতি না হওয়া দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত সমস্যার ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মোকাবেলা করা প্রয়োজন।