মৌলভীবাজারে নাগেশ্বর ফুলের সমারোহে প্রকৃতি সেজেছে নতুন রূপে
মৌলভীবাজার শহরের কোর্ট রোডের সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে নাগেশ্বর গাছে ফুটেছে অসংখ্য ফুল। চৈত্রের রোদে স্নান সেরে সবুজ পাতারা চকচক করছে, আর ফুলগুলো সাদা ওড়নায় মোড়া সোনালি-হলুদ হাসি নিয়ে দুলছে হাওয়ায়। এই দৃশ্য পথচারীদের চোখে পড়ছে আলাদা করে, যেন প্রকৃতি নিজের রাজকুমারীদের নিয়ে বেরিয়েছে ঘুরতে।
বৃষ্টির পর ধুলামুক্ত গাছে ফুটেছে ফুলের উচ্ছ্বাস
এই কদিন ধরে চলমান বৃষ্টি গাছের পাতা, ডাল ও শরীর থেকে ধুলা ও জীর্ণতা ধুয়ে নিয়েছে। ফলে নাগেশ্বর গাছের পাতারা ঘন সবুজের লাবণ্যে ফিরেছে, আর দুটি গাছে ফুল ফুটেছে অজস্র। মঙ্গলবার দুপুরে দেখা গেছে, গাছজুড়ে থরে থরে সবুজ পাতার ফাঁকে ফুলের সমাবেশ, নিচ থেকে চূড়া পর্যন্ত। ফুলগুলো সাদা ঘোমটা খুলে মিটিমিটি হাসছে, হাওয়ার টোকায় দুলছে ডালে ডালে।
নাগেশ্বর ফুলের বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহার
নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মার ‘শ্যামলী নিসর্গ’ বই অনুযায়ী, নাগেশ্বর হিমালয়ের পূর্বাঞ্চল থেকে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারতের বহু স্থানে সহজলভ্য। সিলেট অঞ্চলে অযত্নেও এটি জন্মে। বসন্তকালে ফোটে এই ফুল, যার মুকুল গোলাকৃতি এবং সবুজ-সাদা। ফুলের দুধসাদা পাপড়ির মাঝে সোনালি-হলুদ পরাগ থাকে, যা বর্ণে-গন্ধে অনন্য।
নাগেশ্বর ফুল পূজা ও গৃহসজ্জায় আকর্ষণীয় উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর কাঠ অত্যন্ত দৃঢ়, খুঁটি, পুল, রেলের স্লিপার এবং ঘরের কাজে উপযোগী। বৈজ্ঞানিক নাম Mesua nagassarium, বাংলায় নাগেশ্বর বা নাগকেশর, এবং ইংরেজিতে আয়রন উড নামে পরিচিত।
শহরের অন্যান্য স্থানেও নাগেশ্বরের উপস্থিতি
শহরতলির বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক-সংলগ্ন বন বিভাগের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রবেশপথের দুই পাশেও অনেকগুলো নাগেশ্বর গাছ আছে, যা সড়কটিতে আলাদা সৌন্দর্য তৈরি করেছে। শহরের আরও কয়েকটি স্থানে নতুন করে নাগেশ্বরের গাছ লাগানো হয়েছে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখছে।
এই ফুলকন্যাদের সঙ্গে দেখা করতে পথচারীরা সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে ভিড় জমাচ্ছেন, প্রকৃতির অকৃপণ দান উপভোগ করছেন। নাগেশ্বর ফুলের এই সমারোহ মৌলভীবাজারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে, স্থানীয়দের মনে জাগিয়েছে প্রশান্তি।



