পরিবেশ দূষণকারীদের নাম প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা
পরিবেশ দূষণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম মিডিয়ায় প্রকাশ না করার সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আদালত যেকোনও পরিবেশ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পরে জনগণের জানার জন্য তা মিডিয়ায় প্রকাশের স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
বিচারপতিদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের রায়
বুধবার (৪ মার্চ) বিচারপতি ফরিদ আহমেদ ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদান করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরশেদ। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী সঞ্জয় মন্ডল। পরিবেশ অধিদফতরের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মুনতাসির উদ্দিন আহমেদ।
আইনজীবীদের বক্তব্য ও আইনি লঙ্ঘনের অভিযোগ
শুনানিকালে মনজিল মোরশেদ বলেন, “পরিবেশ দূষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মান রক্ষার্থে সেগুলোর নাম না প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবেশ অধিদফতর। ২০২২ সালের এপ্রিলে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষার্থে এ সিদ্ধান্ত আইন লঙ্ঘন করেছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ এর ৪(২) ধারায় এবং তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ এর ৬(১) ধারায় সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণে সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করে।
মনজিল মোরশেদ আরও বলেন, “পরিবেশ অধিদফতরের দায়িত্ব হলো দূষণ নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া এবং সেই পদক্ষেপ প্রকাশ করা। কিন্তু, তারা একটি সিদ্ধান্ত নিলো যা আমাদের পরিবেশ আইনের বিধান পরিপন্থি। অবৈধ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের সুযোগ করে দিয়েছেন।”
পরিবেশ অধিদফতরের আইনজীবীর জবাব
শুনানিতে পরিবেশ অধিদফতরের আইনজীবী মুনতাসির উদ্দিন দাবি করেন, “বর্তমানে পরিবেশ অধিদফতর দূষণকারীদের নাম প্রকাশ করছে।” তবে আদালতের চাহিদা অনুসারে ওই সময়কালে দূষণকারীদের নাম প্রকাশ করেছেন এমন কোনও তথ্য তিনি উপস্থাপন করতে পারেননি।
রিটের পটভূমি ও আদালতের রুল জারি
২০২২ সালে পরিবেশ অধিদফতর সিদ্ধান্ত নেয় যে যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নেবে সেগুলোর নাম মিডিয়ায় প্রকাশ করা হবে না। পত্রিকায় এ মর্মে রিপোর্ট প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ একটি রিট করে। সেই রিটে উক্ত সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়।
রিটটি দায়ের করেন আইনজীবী মোহাম্মদ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী। মামলার বিবাদীরা হলেন পরিবেশ সচিব, তথ্য সচিব, ডিজি পরিবেশ অধিদফতরসহ মোট পাঁচজন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২২ সালের ১৩ জুন রুল জারি করে অধিদফতরের উক্ত সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং দূষণকারী প্রতিষ্ঠানদের নাম প্রকাশের জন্য কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।
রায়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
রুলের ধারাবাহিকতায় আদালত রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় প্রদান করেন। রায়ে সরকারের সিদ্ধান্ত দূষণকারীদের নাম না প্রকাশ করাকে বেআইনি ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। আদালতের এই সিদ্ধান্ত পরিবেশ সুরক্ষা ও তথ্য অধিকারের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



