বায়ুদূষণে শীর্ষে লাহোর, ঢাকা দ্বিতীয় স্থানে: বিপজ্জনক পর্যায়ে বাতাস
বায়ুদূষণে শীর্ষে লাহোর, ঢাকা দ্বিতীয় স্থানে

বায়ুদূষণে শীর্ষে লাহোর, ঢাকা দ্বিতীয় স্থানে: বিপজ্জনক পর্যায়ে বাতাস

রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, সকাল ৯টা ১৮ মিনিটে প্রকাশিত এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সর্বশেষ সূচক অনুযায়ী, বিশ্বের বায়ুদূষণের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর শহর। অন্যদিকে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। এই তথ্য থেকে স্পষ্ট যে, দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান শহরগুলোর বাতাসের মান মারাত্মকভাবে অবনতি ঘটেছে।

বায়ুদূষণের স্কোর ও শহরগুলোর অবস্থান

বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের প্রতিবেদন অনুসারে, লাহোরের বায়ুদূষণ স্কোর ৩৯০ পয়েন্টে পৌঁছেছে, যা বিপজ্জনক পর্যায় হিসেবে চিহ্নিত। এই উচ্চ স্কোর শহরটির বাসিন্দাদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে। ঢাকার দূষণ স্কোর ২৫০ পয়েন্ট, যা খুবই অস্বাস্থ্যকর শ্রেণিভুক্ত। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা, যার স্কোর ২১৮ পয়েন্ট এবং সেখানকার বাতাসও খুবই অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত হচ্ছে।

বায়ুর মানের শ্রেণিবিভাগ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুর মানের স্কোরের ভিত্তিতে নিম্নলিখিতভাবে শ্রেণিবিভাগ করা হয়:

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
  • স্কোর ০-৫০: ভালো বায়ুর মান
  • স্কোর ৫১-১০০: মাঝারি বা সহনীয় বায়ুর মান
  • স্কোর ১০১-১৫০: সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর
  • স্কোর ১৫১-২০০: অস্বাস্থ্যকর
  • স্কোর ২০১-৩০০: খুবই অস্বাস্থ্যকর
  • স্কোর ৩০১-এর বেশি: দুর্যোগপূর্ণ বা বিপজ্জনক

এই শ্রেণিবিভাগের আলোকে, লাহোরের ৩৯০ স্কোর দুর্যোগপূর্ণ, ঢাকার ২৫০ স্কোর খুবই অস্বাস্থ্যকর, এবং কলকাতার ২১৮ স্কোরও একইভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, দীর্ঘমেয়াদী এই দূষণ জনস্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিস্থিতির সম্ভাব্য কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

বায়ুদূষণের এই উচ্চ মাত্রার পেছনে শিল্পায়ন, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজ এবং আবহাওয়ার অবস্থাকে দায়ী করা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার শহরগুলোতে দ্রুত নগরায়ন ও পরিবেশবান্ধব নীতির অভাব এই সমস্যাকে ত্বরান্বিত করছে। ঢাকায় বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ থাকলেও, বর্তমান তথ্য নির্দেশ করে যে আরও কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজন। পরিবেশবিদরা জরুরি ভিত্তিতে বায়ুর মান উন্নয়নের জন্য নিম্নলিখিত ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন:

  1. শিল্প ও যানবাহনের নির্গমন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ
  2. সবুজ এলাকা বৃদ্ধি ও বনায়ন প্রকল্প জোরদার
  3. জনসচেতনতা তৈরি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নীতিমালা প্রণয়ন

এই প্রতিবেদনটি সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি বায়ুদূষণের বর্তমান সংকটের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে। শহরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।