বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ বায়ুমানের শহরের তালিকায় আবারও শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকা। সোমবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ঢাকার বায়ুমান সূচক (একিউআই) ছিল ১৭৪।
তালিকায় অন্যান্য শহর
ভারতের দিল্লি, উজবেকিস্তানের তাসখন্দ এবং ভিয়েতনামের হ্যানয় যথাক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে। তাদের একিউআই স্কোর যথাক্রমে ১৫৩, ১৪৭ ও ১৪৫।
বায়ুমান সূচকের অর্থ
একিউআই রিডিং ১০১ থেকে ২০০-এর মধ্যে থাকলে তা 'অস্বাস্থ্যকর' বলে বিবেচিত হয়, বিশেষ করে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য। ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে রিডিং 'খুব অস্বাস্থ্যকর' এবং ৩০১ থেকে ৪০০-কে 'বিপজ্জনক' হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়, যা গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।
সরকারি সংস্থাগুলো দৈনিক বায়ুমান প্রতিবেদন জানাতে এবং দূষণের মাত্রা ও সম্ভাব্য স্বাস্থ্য প্রভাব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে একিউআই ব্যবহার করে। বাংলাদেশে এই সূচক পাঁচটি প্রধান দূষণকারী উপাদানের ভিত্তিতে গণনা করা হয়—কণা পদার্থ (পিএম১০ ও পিএম২.৫), নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (এনও২), কার্বন মনোক্সাইড (সিও), সালফার ডাইঅক্সাইড (এসও২) ও ওজোন।
ঢাকার দীর্ঘস্থায়ী দূষণ সমস্যা
ঢাকা দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বায়ুদূষণের সঙ্গে লড়াই করছে। শীতকালে পরিস্থিতি সাধারণত আরও খারাপ হয় এবং বর্ষাকালে উন্নতি হয়। একাধিক গবেষণা অনুসারে, বায়ুদূষণ বিশ্বব্যাপী অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্য ঝুঁকি। দূষিত বায়ুর সংস্পর্শে এলে হৃদরোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের সংক্রমণ এবং ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অনুমান করে, বায়ুদূষণ প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী প্রায় ৭০ লাখ অকালমৃত্যুর কারণ হয়, প্রধানত স্ট্রোক, হৃদরোগ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, ফুসফুসের ক্যান্সার এবং তীব্র শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের কারণে।



