রাতের খাবারের ঝগড়ায় বাবা ছেলেকে গুলি করে আত্মহত্যা
রাতের খাবারের ঝগড়ায় বাবা ছেলেকে গুলি করে আত্মহত্যা

ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের লুধিয়ানায় রাতের খাবারের টেবিলে কথা কাটাকাটির জেরে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য তার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করেছেন। পরে বিষ পান করে নিজেও আত্মহত্যা করেছেন তিনি। রবিবার গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

লুধিয়ানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ষাটোর্ধ্ব ওই ব্যক্তির নাম সুরিন্দর সিং ওরফে ফৌজি। তার নিহত ছেলের নাম গুরশরন সিং গিনি (৪০)। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, সুরিন্দরের স্ত্রী কয়েক বছর আগে মারা যান। তিনি এখন আবার বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার ছেলে গুরশরন এই দ্বিতীয় বিয়ের প্রস্তাবের ঘোর বিরোধী ছিলেন। এ নিয়ে ডিনারের সময় তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। সুরিন্দর তার অবিবাহিত ছেলে গুরশরনের সঙ্গেই থাকতেন। তার অন্য দুই মেয়ে বিদেশে থাকেন।

গোলাগুলি ও মৃত্যু

সরাভা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) বিজয় কুমার জানান, তর্কাতর্কি চরমে পৌঁছালে সুরিন্দর তার ১২ বোর ডাবল ব্যারেল বন্দুক দিয়ে ছেলেকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। প্রথমবার লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে গুরশরন জীবন বাঁচাতে রাস্তায় দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। সুরিন্দর পিছু ধাওয়া করে রাস্তায় তাকে গুলি করেন। এরপর আহত ছেলেকে রাস্তায় ফেলে রেখে বাড়িতে ফিরে নিজেকে তালাবদ্ধ করে ফেলেন এবং বিষাক্ত দ্রব্য পান করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাস্তায় গুরশরনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে বাড়ির দরজা ভেঙে সুরিন্দরকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। দুজনকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

পারিবারিক কলহ ও তদন্ত

প্রতিবেশীদের বরাতে পুলিশ পরিদর্শক বিজয় কুমার জানান, বাবা ও ছেলের মধ্যে প্রায়ই ডিনারের সময় ঝগড়া হতো। ঘটনার সময় দুজনই মদ্যপ ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। খাবারের থালায় খাবার পড়ে ছিল, যা থেকে বোঝা যায় খাওয়ার মাঝপথেই ঝগড়া শুরু হয়েছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সুরিন্দর সিংয়ের বিরুদ্ধে তার ছেলেকে গুলি করার অভিযোগে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও মারা গেছেন। ময়নাতদন্তের পর শেষকৃত্যের জন্য তাদের মরদেহ দুই মেয়ের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।