ভালুকায় পরিবেশ আইন লঙ্ঘনকারী পোশাক কারখানার বর্জ্য পাইপলাইন বন্ধ
ভালুকায় পোশাক কারখানার বর্জ্য পাইপলাইন বন্ধ

ভালুকায় পরিবেশ আইন লঙ্ঘনকারী পোশাক কারখানার বর্জ্য পাইপলাইন বন্ধ

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ‘এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল লিমিটেড’ নামের একটি পোশাক কারখানা পরিবেশ আইন ভঙ্গ করে দীর্ঘদিন ধরে অপরিশোধিত তরল বর্জ্য কৃষিজমিতে ফেলছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি অভিযান চালিয়ে কারখানাটির বর্জ্য নিষ্কাশনের পাইপলাইন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

অভিযানের নেতৃত্ব ও প্রক্রিয়া

অভিযানটিতে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক মো. ইকবাল হোসাইন। পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ভরাডোবা এলাকায় অবস্থিত এই কারখানা দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশগত ছাড়পত্রের একাধিক শর্ত লঙ্ঘন করে চলছিল। সরেজমিন পরিদর্শনে এর সত্যতা পাওয়া যায়, যার ফলে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক রুকন মিয়া লিখিতভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, কারখানাটি বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬ (গ) ধারার পরিপন্থী কাজ করছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতিতে কারখানাটির বাইপাস ড্রেন বা পাইপলাইন বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা অপরিশোধিত তরল ও গৃহস্থালি বর্জ্য বাইরে ফেলার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের অভিযোগ ও ক্ষয়ক্ষতি

স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছিলেন যে, কারখানাটির অবৈধ ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে শিল্পবর্জ্য সরাসরি ফসলি জমিতে প্রবাহিত হয়ে পরিবেশ ও কৃষিতে মারাত্মক ক্ষতি করছে। স্থানীয় কৃষক রুহুল আমিনের মতে, এই অবৈধ বর্জ্যের কারণে ভরাডোবা ইউনিয়নের প্রায় ৩৩৫ দশমিক ৭৪ একর ফসলি জমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এলাকাটিতে এখন আর ফসল ফলানো যায় না, এবং কৃষকেরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।’ এই পরিস্থিতি স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিকে গুরুতরভাবে প্রভাবিত করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদী সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কারখানার প্রতিক্রিয়া ও প্রশাসনের বক্তব্য

অভিযানের সময় কারখানার মহাব্যবস্থাপক ইকরাম হোসেন বর্জ্য নিঃসরণের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি, তবে তিনি নিয়ম মেনে চলার জন্য প্রশাসনের কাছে অতিরিক্ত সময় চেয়েছেন। অন্যদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তর ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, কারখানাটিতে ইটিপি (ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) থাকলেও বাইপাস লাইনের মাধ্যমে অপরিশোধিত বর্জ্য বাইরে ফেলা হচ্ছিল।

পরিদর্শনে পাইপলাইনের মাধ্যমে বর্জ্য নিষ্কাশনের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা আইন লঙ্ঘনের স্পষ্ট উদাহরণ। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আইন লঙ্ঘনের কারণে পাইপলাইনটি বন্ধ করা হয়েছে, এবং বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও স্বস্তি

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকবাল হোসাইন জানান, এই উদ্যোগের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন, এবং পরিবেশ সংরক্ষণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে অন্যান্য শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোও পরিবেশ আইন মেনে চলবে, যা টেকসই উন্নয়নে সহায়ক হবে।

এই ঘটনা পরিবেশ দূষণ রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যকারিতা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে। ভালুকা উপজেলার এই সফল অভিযান পরিবেশ সুরক্ষায় প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থানের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।