নারী ক্ষমতায়নে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ: প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে অরেঞ্জ বন্ড ইস্যুর অনুমোদন
বাংলাদেশে প্রথম অরেঞ্জ বন্ড ইস্যু, নারী ক্ষমতায়নে মাইলফলক

নারী ক্ষমতায়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ: বাংলাদেশে প্রথম অরেঞ্জ বন্ড ইস্যুর অনুমোদন

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হলো। নারী ক্ষমতায়ন ও লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশে প্রথমবারের মতো ১৫৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ‘অরেঞ্জ বন্ড’ ইস্যু করার অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এই বিশেষায়িত বন্ডটি সাজেদা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে বাজারে ছাড়া হবে, যা বাংলাদেশের আর্থিক খাতের বিবর্তনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অরেঞ্জ বন্ড কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

অরেঞ্জ বন্ড মূলত একটি বিশেষায়িত বিনিয়োগ মাধ্যম, যা বিশেষভাবে নারী, কন্যাশিশু ও লিঙ্গীয় সংখ্যালঘুদের ক্ষমতায়নে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অর্থ সংগ্রহের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের বিস্তারিত জানানো হয়েছে। এটি একটি জিরো-কুপন বন্ড, যেখানে সরাসরি সুদ দেওয়া হয় না; বরং ফেস ভ্যালুর চেয়ে কম মূল্যে (ডিসকাউন্টে) বিক্রি করা হয়।

এই বন্ড ইস্যুতে সাজেদা ফাউন্ডেশন অংশীদার হয়েছে ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড এবং সিঙ্গাপুরভিত্তিক ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট এক্সচেঞ্জ-এর সঙ্গে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই বন্ডটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিশীল এবং পুঁজিবাজার-ভিত্তিক উন্নয়ন অর্থায়নের দিকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে। এটি বাংলাদেশে ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট (সামাজিক প্রভাব বিস্তারকারী বিনিয়োগ) ব্যবস্থার বিকাশে বড় ভূমিকা রাখবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বন্ড থেকে উত্তোলিত অর্থের ব্যবহার ও বিনিয়োগকারীদের সুবিধা

ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড জানায়, দীর্ঘদিন ধরে দেশের বন্ড বাজার সরকারি সিকিউরিটিজ ও ব্যাংকগুলোর সাবঅর্ডিনেটেড ঋণের দখলে ছিল। এই বন্ডের মাধ্যমে বাজারে প্রথমবার সামাজিক প্রভাব সৃষ্টিকারী একটি নতুন ফিক্সড ইনকাম অ্যাসেট ক্লাস বা সম্পদ শ্রেণির সূচনা হলো। বন্ড থেকে উত্তোলিত অর্থের ব্যবহার নিম্নরূপ:

  • ৪৮ শতাংশ খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি খাতে ব্যয় করা হবে।
  • ৩২ শতাংশ নারী নেতৃত্বাধীন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে বিনিয়োগ করা হবে।
  • ২০ শতাংশ ৩৬টি জেলায় জলবায়ু-সহনশীল আবাসন তৈরিতে ব্যয় করা হবে।

এই বন্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা একদিকে যেমন করমুক্ত আর্থিক মুনাফা পাবেন, অন্যদিকে নারী ও নারী নেতৃত্বাধীন ব্যবসায় সরাসরি সহায়তার মাধ্যমে পরিমাপযোগ্য সামাজিক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারবেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই বিনিয়োগের প্রভাব আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বাধীন বার্ষিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে যাচাই করা হবে। এতে স্বচ্ছতা বজায় রাখার পাশাপাশি নারী ক্ষমতায়নে এই বন্ডের প্রকৃত সুফল নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে নতুন সম্ভাবনা

এই অরেঞ্জ বন্ড ইস্যু শুধু নারী ক্ষমতায়নের জন্যই নয়, বরং বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের বিকাশেও একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। এটি সামাজিক দায়বদ্ধতা ও আর্থিক লাভের মধ্যে সমন্বয় সাধনের একটি অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ দেশে সামাজিক প্রভাব বিনিয়োগের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও অনুরূপ উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত করবে।