ন্যায়বিচার ও সমতা প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র ও নাগরিকদের যৌথ প্রচেষ্টার আহ্বান
সমাজকল্যাণ ও নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ড. এজেডএম জাহিদ হোসেন সোমবার বলেছেন, একটি ন্যায়বিচার ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার দায়িত্ব শুধুমাত্র রাষ্ট্রের ওপর ছেড়ে দেওয়া যাবে না। তিনি নাগরিকদের সমাজের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রের একার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়
মন্ত্রী জাহিদ হোসেন বলেন, "রাষ্ট্র সবকিছু করবে এই ধারণা কাজ করবে না। আমরা সবাই রাষ্ট্রের নাগরিক – তাই সবারই দায়িত্ব রয়েছে।" তিনি প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ আয়োজিত "বদলে যাওয়া বাংলাদেশে সমতা ও ন্যায়বিচার" শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারে, কিন্তু সমাজকে সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার দায়িত্ব নিতে হবে। "রাষ্ট্র ও তার জনগণ যদি একসাথে কাজ করে, তাহলে আমরা সহজেই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে পারি," তিনি যোগ করেন।
আইনের প্রয়োগ ও নতুন আইনের প্রয়োজনীয়তা
বিদ্যমান আইনি কাঠামোর কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যদি বর্তমান আইনগুলো উদীয়মান সমস্যা সমাধানের জন্য পর্যাপ্ত না হয়, তবে সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সরকারকে জানাতে হবে যাতে নতুন আইন প্রণয়ন বিবেচনা করা যায়।
জাহিদ হোসেন স্পষ্ট করে বলেন, "নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা মোকাবিলায় আইনের অস্তিত্ব যথেষ্ট নয় যদি সঠিক প্রয়োগ না থাকে। বর্তমান সরকার এগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সব ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবে।"
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে নারীদের কল্যাণ ও অধিকারের ক্ষেত্রে কোনোরকম আপস করা হবে না।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতি
এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত নীতি ও কৌশল বিষয়ক উপদেষ্টা ড. জাহেদ উর রহমানও বক্তব্য রাখেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী জাহিদ হোসেনের এই বক্তব্য বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র ও নাগরিকদের মধ্যে অংশীদারিত্বের গুরুত্বকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। তিনি নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষের সক্রিয় ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন।



