বোনের বাড়িতে ঈদ করতে এসে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীর মৃত্যু, আহত ৪
বোনের বাড়িতে ঈদে এসে নারীর মৃত্যু, আহত ৪

বোনের বাড়িতে ঈদ করতে এসে প্রতিপক্ষের হামলায় নারীর মৃত্যু

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় বড় বোনের বাড়িতে ঈদ উদযাপনে এসে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের হামলায় উম্মে হাবিবা উর্মি (৩২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ হামলায় নিহতের বোন উম্মে হাফিজা সুমি, তার স্বামী ফয়সাল ইসলাম ও তাদের দুই সন্তান নুসরাত ও ফারসিদসহ মোট চারজন আহত হয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ

শুক্রবার সন্ধ্যায় ঈদের কেনাকাটা করতে যাওয়ার পথে আদমদীঘি উপজেলার সদর ইউনিয়নের উজ্জ্বলতা গ্রামে এ হামলা সংঘটিত হয়। নিহত উম্মে হাবিবা উর্মি নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ভেবরা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। স্বামী পরিত্যক্তা এই নারী কয়েকদিন আগে ঈদের দাওয়াতে বোনের বাড়িতে বেড়াতে আসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতের বড় বোন উম্মে হাফিজা সুমির সঙ্গে প্রতিবেশী কহির ফকির, তার ভাই হেলাল ফকির ও সিরাজুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর উম্মে হাফিজা সুমি ও তার ছেলেকে মারধর করার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এর পর থেকে আসামিরা মামলা তুলে নিতে হাফিজার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হামলার চিত্র

শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে উম্মে হাফিজা সুমি, উম্মে হাবিবা উর্মি ও পরিবারের অন্য সদস্যরা ঈদের কেনাকাটার জন্য আদমদীঘি উপজেলা সদরের মার্কেটে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত আসামিরা তাদের ওপর হামলা চালায়। মাথায় কুড়ালের আঘাতে হাফিজার স্বামী ফয়সাল ইসলাম গুরুতর আহত হন।

পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা এগিয়ে এলে আসামিরা এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। প্রাণ বাঁচাতে নুসরাত ও উর্মি স্থানীয় শফিকুল ইসলামের বাড়িতে আশ্রয় নেন, কিন্তু সেখানেও তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে মাথা ও শরীরে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাত পান উম্মে হাবিবা উর্মি। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশি তদন্ত ও গ্রেফতার

শনিবার বিকালে আদমদীঘি থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের বড় বোন উম্মে হাফিজা সুমি থানায় প্রতিবেশী কহির ফকির ও সিরাজুল ইসলামসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এজাহার নামীয় পাঁচ আসামিকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।

হাফিজার স্বামী ফয়সাল ইসলামকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, অন্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। মামলার বাদী উম্মে হাফিজা সুমি জানান, তার ছোট বোন উর্মি গত ১৫ দিন আগে ঈদ উদযাপনের জন্য তাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিল। প্রতিপক্ষের হামলায় তার মৃত্যু হয়েছে এবং চারজন আহত হয়েছেন। তিনি অবিলম্বে আসামিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।