আন্তর্জাতিক নারী দিবসে প্রকৌশলীদের আলোচনা সভা ও র্যালি
আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের (আইইবি) নারী প্রকৌশলী অধ্যায় একটি আলোচনা সভা ও র্যালির আয়োজন করেছে। রমনা, ঢাকায় আইইবি সদর দপ্তরের শাহীদ ইঞ্জিনিয়ার ভবনে রবিবার বিকাল ৩টায় এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
নারী প্রকৌশলীদের অবদান ও চ্যালেঞ্জ
আলোচনায় বক্তারা নারী প্রকৌশলীদের পেশাগত অবদান, কর্মক্ষেত্রে তাদের মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জ এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন আইইবির সভাপতি ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজ-উল-ইসলাম (রিজু)।
তিনি বলেন, "নারীদের নিজস্ব মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে বর্তমান অবস্থানে পৌঁছালেও কর্মক্ষেত্র ও পারিবারিক জীবনে তারা নানা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। সমাজের বহু ক্ষেত্রে এখনও পুরুষের আধিপত্য বিদ্যমান, যেখানে ছেলেদের মতামত ও সুযোগকে মেয়েদের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই মানসিকতা পরিবর্তন করা জরুরি।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আইইবিতে নারী প্রকৌশলী অধ্যায় অপেক্ষাকৃত নতুন হলেও ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি সফল কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে এবং প্রতিষ্ঠান থেকে এই অধ্যায়কে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন।
প্রকৌশল শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ
বিশেষ অতিথি আইইবির সম্মানিত সচিব সাধারণ অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মো. সাব্বির মোস্তাফা খান বলেন, বাংলাদেশে প্রকৌশল শিক্ষায় নারীদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৬ সালে, যখন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) প্রথমবারের মতো ছাত্রী ভর্তি করা হয়।
তিনি বলেন, "বছরের পর বছর ধরে প্রকৌশল শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কর্মসংস্থানে তাদের অংশগ্রহণ সমানুপাতে বাড়েনি। অনেক নারী প্রকৌশলী কর্মক্ষেত্রে হয়রানি ও অপমানের শিকার হচ্ছেন বলে উল্লেখ করে তিনি আইইবির ভেতরে একটি শক্তিশালী হয়রানি-বিরোধী কমিটি গঠনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।"
শিক্ষিত মায়ের গুরুত্ব
আইইবি নারী কমিটির চেয়ারপারসন মিসেস মুসলিমা খন্দকার বলেন, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নারী শিক্ষা প্রসারে অসাধারণ ভূমিকা পালন করেছেন। নেপোলিয়নের একটি বিখ্যাত উদ্ধৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, "আমাকে একজন শিক্ষিত মা দিন, আমি আপনাকে একটি শিক্ষিত জাতি দেব।"
তিনি যোগ করেন, বুদ্ধিমান ও প্রগতিশীল জাতি গঠনে শিক্ষিত মায়ের কোনো বিকল্প নেই এবং সুস্থ পরিবার ও সমাজ গঠনে নারী-পুরুষের সমন্বিত সহযোগিতা সমান গুরুত্বপূর্ণ।
নারীদের অগ্রযাত্রা
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন নারী প্রকৌশলী অধ্যায়ের চেয়ারপারসন প্রকৌশলী শাহনাজ শারমিন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস নারীদের সম্মান জানানো এবং তাদের এগিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
তিনি বলেন, "নারীরা এখন বিজ্ঞান, চিকিৎসা ও শাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের মেধার প্রদর্শন করছেন এবং অসংখ্য চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে জাতীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।"
সভার সমন্বয় ও র্যালি
নারী প্রকৌশলী অধ্যায়ের সচিব প্রকৌশলী ইশরাত জাহানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস নারীদের অবদান, সংগ্রাম ও অর্জনকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি বৈশ্বিক উপলক্ষ, এবং সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে নারী ও পুরুষের সমান অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট (প্রশাসন ও অর্থ) প্রকৌশলী এটিএম তানবির-উল হাসান (তামাল), ভাইস প্রেসিডেন্ট (এসঅ্যান্ডডব্লিউ) প্রকৌশলী নিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া, ঢাকা সেন্টারের সম্মানিত সচিব প্রকৌশলী কেএম আসাদুজ্জামান, আইইবি নারী কমিটির সহকারী সদস্য সচিব ড. ফিরোজা মুশিরা, সম্মানিত সহকারী সচিব সাধারণ প্রকৌশলী মোহাম্মদ আহসানুল রাসেল ও প্রকৌশলী সাব্বির আহমেদ ওসমানি, আইইবির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ এবং নারী প্রকৌশলীরা।
অনুষ্ঠানে নারী প্রকৌশলী ও আইইবি নারী কমিটির সদস্যদের কার্ড, ফুলের তোড়া ও চকলেট দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। আলোচনা সভার পর আইইবি প্রাঙ্গণে একটি র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। নারী প্রকৌশলী অধ্যায়ের চেয়ারপারসন প্রকৌশলী শাহনাজ শারমিন, সহ-চেয়ারপারসন প্রকৌশলী দিলরুবা ফারজানা ও সচিব প্রকৌশলী ইশরাত জাহানের নেতৃত্বে বিভিন্ন অধ্যায় ও সংগঠনের নারী প্রকৌশলীরা এই র্যালিতে অংশ নেন।



