বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নুরুননিসা সিদ্দিকা নারী নির্যাতন বন্ধে বিচার ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবি তুলেছেন। তিনি নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে অপরাধ মোকাবিলায় একটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠনের জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ঢাকার মগবাজারে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনা সভার নেতৃত্ব ও বক্তব্য
এই আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণ বিভাগীয় সম্পাদক খন্দকার আয়েশা খাতুন। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও তালিমুল কুরআন বিভাগীয় সম্পাদক ইরানি আখতার। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন আইন ও মানবসম্পদ বিভাগীয় সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাবিকুন নাহার মুন্নি। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য উম্মে খালেদা জাহান ও শিক্ষিকা ফাতেমা আক্তার হ্যাপি।
স্বাগত বক্তব্য ও সমালোচনা
হোলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফিজিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. নাজনীন আখতার ও সাবেক কাউন্সিলর আমিনা বেগম স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। নুরুননিসা সিদ্দিকা কিছু নারীবাদী সংগঠনের সমালোচনা করে বলেন, যখন বোরকা পরিহিত মুসলিম নারীরা সহিংসতার শিকার হন, তখন এই গোষ্ঠীগুলো প্রতিবাদ না করে নির্দিষ্ট শ্রেণির নারীর এজেন্ডা চালিয়ে যান। তিনি সকল নারীকে নারী বিষয়গুলোতে একত্রিত কণ্ঠে আওয়াজ তোলার আহ্বান জানান।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গুরুত্ব
অ্যাডভোকেট সাবিকুন নাহার মুন্নি জোর দিয়ে বলেন, ভারসাম্যপূর্ণ নারী ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অপরিহার্য। তিনি শিক্ষাসহ সকল ক্ষেত্রে নারী নির্যাতনের ক্রমবর্ধমান হার তুলে ধরেন এবং অনৈতিক পরিবেশকে এই নির্যাতন চালিয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী করেন।
সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা
খন্দকার আয়েশা খাতুন বলেন, নারী অধিকার রক্ষায় সকল স্তরের নারীদের মধ্যে সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিসহ রাজধানীর বিভিন্ন ক্ষেত্রের নারীরা এই আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সমাপ্তি
এই অনুষ্ঠানে কাজী তাবাসসুমের কুরআন তিলাওয়াত পরিবেশিত হয়। কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য রোজিনা আখতারের নেতৃত্বে দোয়া দরুদ পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে। মারজান হিরার সঞ্চালনায় এই অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।



