সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে বিয়ের তিন মাস পর রিক্তামনি (১৮) নামে এক গৃহবধূ বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ওই গৃহবধূর লাশ জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায় থানা পুলিশ।
শ্বশুর আটক
আত্মহত্যায় প্ররোচিত করার অভিযোগে শুক্রবার ওই গৃহবধূর শ্বশুর আব্দুল মন্নাফকে আটক করেছে পুলিশ। তাহিরপুর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, আত্মহত্যার প্ররোচনায় মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মন্নাফকে জেলা শহর থেকে আটক করা হয়েছে এবং পরে তাহিরপুর থানায় নিয়ে আসা হবে।
পরিচয় ও অভিযোগ
মৃত রিক্তা মনি সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের কলাগাঁও সীমান্ত গ্রামের আব্দুল মন্নাফের ছেলে সোহাগ মিয়ার স্ত্রী এবং পার্শ্ববর্তী মধ্যনগর উপজেলার সাউথপাড়ার মৃত পুতুল মিয়ার মেয়ে। শুক্রবার বিকালে রিক্তা মনির মা হাসনা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে স্বামী সোহাগের অবর্তমানে রিক্তা মনি বিষপানে আত্মহত্যা করে। তাহিরপুর হাসপাতালে নেওয়ার পথে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে খবর দেয়।
হাসনা বেগম অভিযোগ করেন, প্রেমের বিয়ে কোনোরকম সোহাগের পরিবার মেনে নিলেও বিয়ের পর থেকেই আসবাবপত্র ও যৌতুকের টাকার জন্য সোহাগ ও তার পরিবারের সদস্যরা তার মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছিল। শারীরিক নির্যাতনের দুই দিন পর সোহাগ কৌশলে বাড়ি থেকে চলে যায়। তিনি দাবি করেন, তার মেয়েকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে।
পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে।



