ইউক্রেন আজভ সাগর ও রুশ অধিকৃত উপকূলীয় এলাকায় পাঁচটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বলছে, জাহাজগুলোতে অবৈধ পণ্য বহন করা হচ্ছিল। ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার জানিয়েছেন, জাহাজগুলো ইউক্রেনীয় শস্য ‘চুরির’ পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জাম ও জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহৃত হচ্ছিল।
হামলার সময় ও প্রেক্ষাপট
সেন্ট পিটার্সবার্গে রাশিয়ার একটি বড় অর্থনৈতিক ফোরামে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বক্তৃতা দেওয়ার প্রস্তুতির সময় এই হামলা চালানো হয়। এই হামলার এক দিন আগে যুদ্ধ বন্ধে পুতিনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
রোমানিয়া উপকূলে নৌ-ড্রোন বিস্ফোরণ
এদিকে ইউক্রেন নিশ্চিত করেছে যে শুক্রবার রোমানিয়া উপকূলের কাছে তাদের একটি নৌ-ড্রোন বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে এই বিস্ফোরণে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
জেলেনস্কির শান্তি প্রস্তাব
জেলেনস্কি চিঠিতে তাঁর শান্তি প্রস্তাবের পাশাপাশি লিখেছেন, রাশিয়ার নাগরিকেরা ইউক্রেনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, জ্বালানিসংকট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। এই যুদ্ধ চার বছর ধরে চলছে।
রাশিয়ার ভেতরে হামলা
রাশিয়ার যুদ্ধ সক্ষমতা কমাতে ইউক্রেন বারবার দেশটির ভেতরের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে আসছে। পুতিন সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছানোর এক দিন আগেই শহরটির উপকণ্ঠে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল কিয়েভ।
আজারবাইজানি নাগরিক নিহত
আজভ সাগরে দুটি জাহাজে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় তাদের পাঁচ নাগরিক নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে আজারবাইজান এই হামলার জন্য সরাসরি কাউকে দায়ী করেনি। দেশটি জানিয়েছে, আক্রান্ত জাহাজগুলো আজারবাইজানের নয়।
ড্রোন কমান্ডারের বক্তব্য
এর আগে ইউক্রেনের ড্রোন কমান্ডার রবার্ট ব্রভদি জানান, মারিউপোল ও বেরদিয়ানস্ক বন্দরে গত রাতে পাঁচটি ‘অবৈধ’ জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। রুশ নিয়ন্ত্রিত অধিকৃত উপকূলীয় এলাকায় এসব জাহাজ অবস্থান করছিল।
ব্রভদি জানান, আক্রান্ত জাহাজের তালিকায় পণ্যবাহী জাহাজ ও ট্যাংকার ছিল। গোপনে ইউক্রেনীয় শস্য চুরির উদ্দেশ্যে জাহাজগুলোর নাম মুছে ফেলা হয়েছিল এবং রাডার বন্ধ রাখা হয়েছিল। আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আক্রান্ত দুটি জাহাজের নাম ‘নাস্ত্রা’ ও ‘সারকন’।



