ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ঘাঁটা শুরু করেন? এই অভ্যাসকে অনেকে 'আপডেটেড' থাকা বলেন। কিন্তু চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, এতে আপনার মস্তিষ্কের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও পড়ছে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব।
কেন ক্ষতিকর এই অভ্যাস?
ঘুম ভাঙার পর মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্র অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় থাকে। এগুলো ধীরগতিতে কাজ করে। সেই সময় মনোযোগ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ বা সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো কাজগুলো ঠিকমতো করা যায় না। ঘুম থেকে ওঠার পর ব্রেন ও নার্ভ অ্যাকটিভ হতে কিছুটা সময় নেয়। সেই মুহূর্তে মোবাইল ঘাঁটলে মস্তিষ্কের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়। একসঙ্গে একাধিক তথ্য বোঝার জন্য মস্তিষ্ক প্রস্তুত থাকে না, ফলে মানসিক ক্লান্তি তৈরি হয়।
কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যায়
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর স্বাভাবিকভাবেই শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেশি থাকে। এই হরমোন জেগে উঠতে সাহায্য করে। কিন্তু ঘুম ভাঙা চোখে মোবাইল চেক করলে কর্টিসলের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট ও মেসেজ, যা মানসিক চাপ তৈরি করে, তার জেরে কর্টিসলের ক্ষরণ আরও বাড়ে। এর ফলে অ্যাংজাইটি ও স্ট্রেস বাড়ে এবং স্নায়ুতন্ত্র উত্তেজিত হয়ে পড়ে। এই অভ্যাস ক্রনিক স্ট্রেসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
দিনভর প্রভাব
দিনের শুরু যদি মানসিক চাপে ভরপুর হয়, তাহলে গোটা দিন বিগড়ে যায়। মনোযোগ নষ্ট হয়, দিনভর মানসিক ক্লান্তি কাজ করে, মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে। অনেকেই এই লক্ষণগুলো বুঝতে পারেন না, কিন্তু এর জেরে ক্রনিক ডিপ্রেশন তৈরি হয়। পারিপার্শ্বিক চাপের সঙ্গে মিলিয়ে মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
সমাধান কী?
ঘুম থেকে উঠে মোবাইলে হাত না দেওয়াই ভালো। অ্যালার্মের জন্য ঘড়ি ব্যবহার করা উচিত। ঘুম থেকে ওঠার অন্তত ২০-৩০ মিনিট পর মোবাইলে হাত দিন। মস্তিষ্ককে সক্রিয় হওয়ার সময় দিন। এই ছোট পরিবর্তনই মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।



