যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬২ হাজার মেট্রিক টন গম বহনকারী এমভি এমপি আলট্রাম্যাক্স-২ নামে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) খাদ্য মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জিটুজি-৩ চুক্তির অধীনে গম আমদানি
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে নগদ ক্রয় চুক্তির (জিটুজি-৩) অধীনে এসব গম আমদানি করা হয়েছে। এই চুক্তি দুদেশের মধ্যে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গম খালাসের প্রক্রিয়া শুরু
জাহাজে রক্ষিত গমের নমুনার পরীক্ষা এরই মধ্যে শুরু হয়েছে এবং দ্রুত খালাসের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জাহাজে রক্ষিত ৬১ হাজার টন গমের মধ্যে ২৯ হাজার ৪৫০ টন চট্টগ্রামে এবং ৩১ হাজার ৫৫০ টন মোংলা বন্দরে খালাস করা হবে। এই প্রক্রিয়া দেশের খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পূর্ববর্তী গম আমদানির রেকর্ড
এর আগে, জিটুজি-১ চুক্তির আওতায় প্রথম শিপমেন্টে ৫৮ হাজার ৪৫৭ টন এবং জিটুজি-২ চুক্তির আওতায় ৬২ হাজার ১৫০ টন গম দেশে পৌঁছায়। এই ধারাবাহিক আমদানি বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টার প্রতিফলন।
দেশে গমের চাহিদা ও উৎপাদন
দেশে মোট গমের চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ টন, যেখানে দেশে উৎপাদন হয় মাত্র ১০ লাখ টনের মতো। এই বিশাল চাহিদা পূরণের জন্য সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে অবশিষ্ট গম বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। এই আমদানি দেশের খাদ্য সংকট মোকাবিলায় একটি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়ক হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। গমের এই নতুন চালান দেশের বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি করে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।



