বগুড়ায় জিরার সঙ্গে ক্যারাওয়ে সিড মিশিয়ে ভেজালের অভিযোগে ব্যবসায়ীর তিন লাখ টাকা জরিমানা
বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়া ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর পূর্বপাড়া গ্রামে অবস্থিত মেসার্স শাহীন ট্রেডার্স মসলা কারখানায় আমদানি করা জিরার সঙ্গে ক্যারাওয়ে সিড মিশিয়ে ভেজাল জিরা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত কারখানার মালিক শাহীন আলমকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করেছে। র্যাব-১২ বগুড়া কোম্পানি ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
সোমবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত র্যাব-১২ বগুড়া কোম্পানির কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার ফিরোজ আহমেদ এবং জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমাদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে কারখানায় আমদানি করা জিরার সঙ্গে জিরাসদৃশ অর্ধেক মূল্যমানের ক্যারাওয়ে সিড মিশিয়ে জিরা তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায়।
এই ভেজাল জিরা সমমূল্যে বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে মোড়কজাত করে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, আমদানিতে ক্যারাওয়ে সিড নামে ঘোষণা থাকলেও মেশিনে পলিশ করে ভারতীয় ব্র্যান্ড বিটি ডায়মন্ড জিরার নকল মোড়কে জিরা ঘোষণা দিয়ে মোড়কজাত করা হচ্ছিল।
অভিযুক্তের স্বীকারোক্তি ও শাস্তি
কারখানার মালিক বগুড়া সদরের কৃষ্ণপুর পূর্বপাড়ার জাহিদুর রহমানের ছেলে শাহীন আলম (৩২) এসব অপরাধ স্বীকার করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমাদের ভ্রাম্যমাণ আদালত নিরাপদ খাদ্য আইনে তাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করে। অভিযুক্ত ব্যবসায়ী তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার টাকা পরিশোধ করেছেন বলে জানানো হয়েছে।
অভিযানের ফলাফল ও নির্দেশনা
অভিযানের সময় কারখানায় ৪২ বস্তা জিরা এবং ১৮০ বস্তা ও খোলা ১২ বস্তা ক্যারাওয়ে সিড জব্দ করা হয়। মসলা আমদানিকারক সমিতির সভাপতিকে আমদানি ও মোড়কে প্রদত্ত ঘোষণা অনুযায়ী বিক্রি নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে সরকারের সব আইন ও বিধি মেনে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
অভিযানে বগুড়া নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. রাসেল ও অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। র্যাব-১২ বগুড়া কোম্পানির কমান্ডার স্কোয়াড্রেন লিডার ফিরোজ আহমেদ বিকালে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এই ঘটনা ভোক্তা সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভূমিকার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভেজাল বিরোধী অভিযান জোরদার করার মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপের আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।



