রমজানে রাজধানীর বাজারে মুরগির দাম কেজিতে ৩০ টাকা বৃদ্ধি, সবজির দামে স্বস্তি
রমজানে মুরগির দাম কেজিতে ৩০ টাকা বেড়েছে

রমজানে রাজধানীর বাজারে মুরগির দামে চড়া উত্থান

রমজান মাসের মাঝামাঝি সময়ে এসে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজারে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুরগির দাম কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের জন্য জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির নতুন চাপ সৃষ্টি করেছে।

মুরগির বাজারে চড়া মূল্য

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল ও কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে এই দাম ছিল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা, অর্থাৎ দাম প্রায় ৩০ টাকা বেড়েছে। একইভাবে সোনালি মুরগি মানভেদে ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ২৭০ থেকে ৩০০ টাকা।

বিক্রেতাদের মতে, শীতকালে খামারে মুরগি মারা যাওয়ায় সরবরাহ সংকট এবং রমজান মাসে বাড়তি চাহিদাই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ। তবে ডিমের দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে, প্রতি ডজন ডিম ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিনি ও চালের দামে অস্থিরতা

মুরগির পাশাপাশি চিনি ও পোলাওয়ের চালের দামেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। প্রতি কেজি খোলা চিনি ১০০ টাকা এবং মোড়কজাত চিনি ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা তিন সপ্তাহ আগের তুলনায় কেজিতে ১০ টাকা বেশি। পাইকারিতে প্রতি বস্তা (৫০ কেজি) চিনির দাম বেড়েছে ৩০০ টাকা।

পোলাওয়ের চাল বা চিনিগুঁড়া চালের দামও লাফিয়ে বাড়ছে। ব্র্যান্ডভেদে খোলা চিনিগুঁড়া চাল ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং মোড়কজাত চাল ১৭৫ থেকে ১৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক মাস আগে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কম ছিল। তবে সাধারণ চালের দাম গত দুই সপ্তাহ ধরে স্থিতিশীল রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মসলার বাজারে উত্তাপ

আসন্ন ঈদুল ফিতর সামনে রেখে মসলার বাজারেও দামের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। আলুবোখারার দাম কেজিপ্রতি ২৫০ টাকা বেড়ে এক হাজার টাকা হয়েছে। এছাড়া জিরা ও কিশমিশের দাম কেজিতে ৪০ টাকা এবং কাঠ ও কাজুবাদামের দাম কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা বেড়েছে।

অন্যদিকে বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। বিক্রেতাদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় ডিলাররা মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশ তেল সরবরাহ করছেন, যা বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।

সবজি বাজারে স্বস্তির খবর

তবে স্বস্তির খবর মিলেছে সবজি বাজার থেকে। রোজার শুরুতে চড়া দামে বিক্রি হওয়া লেবু এখন হালিপ্রতি ৪০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে, যা আগে ১০০ টাকার ওপরে ছিল। শসা, বেগুন ও কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে যথাক্রমে ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ৬০ থেকে ৮০ টাকা ও ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা কমে এখন ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় নেমেছে। এই দাম হ্রাস নিম্ন আয়ের ক্রেতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে এনেছে।

ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ

বাজারের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সাধারণ ক্রেতাদের মতে, মাছ-মাংসের চড়া দামের কারণে মুরগিই ছিল তাদের প্রধান ভরসা, কিন্তু বারবার দাম বাড়তে থাকায় জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রমজান ও ঈদের সময়ে চাহিদা বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের কারণে বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। অন্যথায়, দামের এই ঊর্ধ্বগতি সাধারণ মানুষের জন্য আরও বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে।