অমর একুশে বইমেলা শেষ, প্রকাশকদের অসন্তুষ্টি ও বিক্রি নিয়ে বিতর্ক
অমর একুশে বইমেলা শেষ, প্রকাশক অসন্তুষ্টি ও বিতর্ক

অমর একুশে বইমেলার সমাপ্তি: প্রকাশকদের অসন্তুষ্টি ও বিক্রি নিয়ে বিতর্ক

গতকাল রোববার শেষ হলো অমর একুশে বইমেলা। ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই মেলা ১৮ দিনব্যাপী আয়োজিত হয়েছিল। এবারের মেলা অনেকটাই নিয়ম রক্ষার তাগিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রকাশকদের একটি বড় অংশ ফেব্রুয়ারির শেষে শুরু হওয়া এই মেলায় অংশ নিতে অনিচ্ছুক ছিলেন। কারণ, পবিত্র রমজান মাসের মধ্যেই মেলা শুরু হওয়ায় লোকসমাগম কম হওয়ার আশঙ্কা ছিল। বাস্তবেও সেই আশঙ্কা সত্যি হয়েছে বলে প্রকাশকরা জানিয়েছেন।

বিক্রি নিয়ে প্রকাশকদের প্রতিবাদ

বাংলা একাডেমি মেলার শেষ দিনে দাবি করেছে যে, ১৮ দিনের মেলায় ১৭ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। এছাড়া বাংলা একাডেমির নিজস্ব বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৭ লাখ ৪ হাজার ৬২৯ টাকা। তবে প্রকাশকরা এই হিসাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। প্রকাশক ঐক্যের পক্ষ থেকে অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম বলেন, 'বাংলা একাডেমি যে হিসাব দিয়েছে, তা আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। তাঁরা কিসের ভিত্তিতে এই হিসাব দিলেন, আমরা জানি না। আমাদের কারও কাছ থেকে কোনো তথ্য নেওয়া হয়নি। প্রথম দিনে মেলার অবকাঠামোই তৈরি হতে পারেনি। তারপর ১৭ দিনে ১৭ কোটি টাকার বই বিক্রি একটা হাস্যকর হিসাব।'

তিনি আরও উল্লেখ করেন, 'মেলা যতটা খারাপ হবে বলে ধারণা করেছিলাম, তার চেয়ে তিন গুণ বেশি খারাপ ছিল বিক্রি। প্রায় ৭৫ শতাংশ বিক্রি কমে গেছে।' প্রকাশক ঐক্যের আরেক সদস্য অ্যাডর্ন পাবলিকেশনের প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসাইনও একই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিক্রির পরিমাণের এমন উদ্ভট দাবি করে মেলাকেই হাস্যাস্পদ করা হচ্ছে। এবার মেলার পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে অনেক অসংগতি রয়েছে এবং এসব নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলা একাডেমির প্রতিক্রিয়া

এ ব্যাপারে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বলেন, প্রতিবছর যেভাবে বিক্রির তথ্য সংগ্রহ করা হয়, প্রকাশকদের কাছে বিক্রির স্লিপ দিয়ে এবারও ঠিক সেভাবেই তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। কারও কারও কাছে বিক্রির তথ্য বেশি মনে হলেও হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মেলায় প্রকাশিত বইয়ের পরিসংখ্যান

তথ্যকেন্দ্রের হিসাবে, মেলার শেষ দিনে নতুন বই এসেছে ২৩৬টি। মোট প্রকাশিত নতুন বইয়ের সংখ্যা ২ হাজার ৭টি। সবচেয়ে বেশি প্রকাশিত হয়েছে কবিতার বই—৭৭১টি। উপন্যাস আছে দ্বিতীয় স্থানে, সংখ্যা ২৮৬টি। প্রায় কাছাকাছি ২৭১টি প্রকাশনা নিয়ে গল্পগ্রন্থ তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে। অন্যান্য বিভাগে:

  • প্রবন্ধগ্রন্থ: ৮৭টি
  • শিশুতোষ: ৮০টি
  • জীবনী: ৫১টি
  • গবেষণা: ৪৪টি
  • ভ্রমণ: ৪০টি
  • ধর্মীয়: ৩৫টি
  • ইতিহাস: ২৮টি
  • বিজ্ঞান: ২৫টি
  • মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক: ৬টি

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান

মেলার শেষ দিনে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এবার বেশিসংখ্যক মানসম্মত বই প্রকাশের জন্য চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছে কথাপ্রকাশ। গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা গ্রন্থের জন্য মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছে তিনটি বই:

  1. প্রথমা প্রকাশনের মুহম্মদ ইউসুফ সিদ্দিকের লেখা 'শিলালিপি: বাংলার আরবি–ফারসি প্রত্নলেখমালা'
  2. ইউপিএল থেকে প্রকাশিত ফিরোজ আহমেদ অনূদিত 'রিচার্ড ইটনের ইসলামের উত্থান ও বাংলা সীমান্ত ১২০৪-১৭৬০'
  3. ঐতিহ্য থেকে প্রকাশিত আমিন বাবুর 'প্রকাশয়তি: কালি–কলম আর কাগজের অড রিসার্চ: ফাউন্টেন পেন'

সর্বাধিক মানসম্মত শিশুতোষ গ্রন্থ প্রকাশের জন্য পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স পেয়েছে রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার। নতুন প্রকাশকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মানসম্মত বই প্রকাশের জন্য সরদার জয়েনউদদীন স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছে সহজ প্রকাশ। স্টলের সাজসজ্জার জন্য শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার পেয়েছে ক্রিয়েটিভ ঢাকা পাবলিকেশন্স, মাত্রা প্রকাশ ও বেঙ্গল বুকস।