রেজাউদ্দিন স্টালিনের নতুন কবিতার বই 'যতিচিহ্নহীন' প্রকাশিত হচ্ছে বইমেলায়
স্টালিনের নতুন কবিতার বই 'যতিচিহ্নহীন' প্রকাশিত হচ্ছে

রেজাউদ্দিন স্টালিনের নতুন কবিতার বই 'যতিচিহ্নহীন' এবারের বইমেলায় প্রকাশিত হচ্ছে

এবারের অমর একুশে বইমেলায় কবি ও লেখক রেজাউদ্দিন স্টালিনের একটি নতুন কবিতার বই 'যতিচিহ্নহীন' প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। বইটি নিয়ে তিনি বলেন, এটি তার সময়ের সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে।

সমাজের অস্থিরতা কবিতায় ছায়া ফেলেছে

রেজাউদ্দিন স্টালিন উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিককালে কবিতার পাঠক সংখ্যা আবার বাড়তে শুরু করেছে। তিনি মনে করেন, সমাজে অনাচার, বৈষম্য এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা যত বাড়বে, মানুষের মধ্যে কবিতার প্রতি আগ্রহ ততই বৃদ্ধি পাবে। কারণ মানুষ সবসময় শান্তি, প্রেম ও ভালোবাসার স্বপ্ন দেখে, আর কবিতা সূক্ষ্মভাবে সেই কাজটি করে।

তিনি বলেন, "আমি সবসময় আমার সময়কে কবিতায় ধরতে চেয়েছি। বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থানের বিরুদ্ধে আমি সোচ্চার; আর সেই বাস্তবতার ছায়া আমার এই বইয়েও পাওয়া যাবে।" তিনি বিশ্বাস করেন, প্রকৃত কবিতা যদি সময়কে উপস্থাপন করতে পারে, তবে পাঠকের কাছে তার একটি নতুন জায়গা তৈরি হবেই।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বইমেলা আয়োজন ও নিরাপত্তা নিয়ে মতামত

বইমেলা আয়োজন নিয়ে শুরু থেকেই অনিশ্চয়তা থাকলেও রেজাউদ্দিন স্টালিন কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা দেখেননি। তিনি বলেন, মেলা দেরিতে শুরু হওয়া বা অনিশ্চয়তা বাস্তব কারণেই হয়েছে। এবার মেলা রমজানে পড়ায় পাঠক উপস্থিতির প্রভাব নিয়ে তিনি বলেন, "প্রভাব কতটা পড়বে তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে পাঠকরা তাদের সুবিধামতো সময় নির্ধারণ করেই মেলায় আসবেন।" তিনি উল্লেখ করেন, এর আগেও রমজানে মেলা হওয়ার পর যথেষ্ট পাঠক ও দর্শক এসেছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ ও সরকার মেলাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখে একটি নিরাপদ বলয় তৈরি করবে। তবে এর পাশাপাশি পাঠক ও সাধারণ জনগণকে সচেতন হতে হবে। তিনি বলেন, "আমাদের চারপাশে যে অপশক্তি আছে, তাদের বিরুদ্ধে বইমেলা একটি স্মারক চিহ্ন। তাই মেলা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার দায়িত্ব সরকার ও কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি জনগণেরও।"

আদর্শ বইমেলা আয়োজনের জন্য সুপারিশ

একটি আদর্শ বইমেলা আয়োজন করতে রেজাউদ্দিন স্টালিন বেশ কিছু পদক্ষেপের কথা বলেন:

  • কারিগরি ও স্থাপত্যশৈলী উন্নত করা
  • যাতায়াত ব্যবস্থা সহজ করা
  • পর্যাপ্ত পানি, মশা ও ধুলাবালি নিরসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা
  • অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা রাখা
  • দর্শকদের সম্মানের সাথে প্রবেশ ও বের হওয়ার ব্যবস্থা করা
  • বইমেলা নারীবান্ধব করা

তিনি বলেন, "সর্বোপরি, বইমেলা যেন অবশ্যই নারীবান্ধব হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি।"

ডিজিটাল ডেটাবেজ ও প্রকাশনা শিল্পের চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত বইয়ের ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরির বিষয়ে রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, এটি অত্যন্ত জরুরি। তিনি মনে করেন, বাংলা একাডেমি, বুক সেন্টার এবং আর্কাইভের দায়িত্ব এটি তৈরি করা। পাশাপাশি অসম্পাদিত বা ভুলে ভরা বইগুলো শনাক্ত করা উচিত, যাতে মানহীন বই তরুণ সমাজকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে না পারে।

পাঠক-লেখক যোগাযোগের বর্তমান অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, এই যোগাযোগের জায়গাটি এখন খুবই দুর্বল। লেখক-পাঠক মুখোমুখি হওয়ার অনুষ্ঠানগুলোতে সাধারণত কেউ যায় না। তিনি বলেন, "গণমাধ্যম এবং আয়োজকদের উচিত পাঠককে আগ্রহী করে তোলা এবং লেখকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। এমনকি প্রকাশকদের সঙ্গেও লেখকের মুখোমুখি হওয়ার একটি প্ল্যাটফর্‌ম থাকা দরকার।"

বইয়ের মান ও সম্পাদনা নিয়ে প্রকাশকদের সচেতনতা সম্পর্কে তিনি বলেন, অধিকাংশ প্রকাশকই এ ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন নন। বইয়ের মূল্য নির্ধারণে কোনো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নেই, এবং তারা কেবল সরকারের কাছে বই বিক্রির চিন্তা করেই সারা বছর বসে থাকেন। তিনি বলেন, "বইকে জেলা, উপজেলা বা মফস্বলে নিয়ে যাওয়ার কোনো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তাদের মধ্যে দেখা যায় না। মানের প্রশ্নে তাদের আরও যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন।"