অমর একুশে বইমেলা ২০২৬: প্রকাশকদের হতাশা ও ক্ষতির মাঝে সমাপ্তির প্রস্তুতি
বইমেলা ২০২৬: প্রকাশকদের হতাশা ও ক্ষতি নিয়ে সমাপ্তি

অমর একুশে বইমেলা ২০২৬: প্রকাশকদের হতাশা ও ক্ষতির মাঝে সমাপ্তির প্রস্তুতি

অমর একুশে বইমেলা ২০২৬-এর পর্দা নামতে বাকি আর মাত্র এক দিন। তবে এবারের মেলা শেষ হচ্ছে উৎসবের আমেজ ছাপিয়ে প্রকাশকদের চরম হতাশা, বিশাল আর্থিক ক্ষতি এবং শেষ মুহূর্তের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষত নিয়ে। শনিবার (১৪ মার্চ) বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘প্রকাশক ঐক্য’ এবারের মেলার ব্যবসায়িক পরিস্থিতিকে ‘করোনাকালের চেয়েও শোচনীয়’ বলে অভিহিত করেছে।

বিক্রির চরম পতন ও আর্থিক সংকট

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউপিএলের মাহরুখ মহিউদ্দিন, অ্যাডর্ন পাবলিকেশন্সের জাকির হোসেন এবং আদর্শ প্রকাশনীর মাহাবুবুর রহমান। প্রকাশক ঐক্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে ২০২৫ সালেই বই বিক্রি গত বছরের চেয়ে ৬০ শতাংশ কমেছিল। আর এবারের ২০২৬ সালের মেলায় বিক্রি ২০২৫ সালের তুলনায় আরও ৮০ শতাংশ কমেছে। অংশগ্রহণকারী প্রায় ৯০ শতাংশ প্রকাশকের স্টল নির্মাণের প্রাথমিক খরচটুকুও ওঠেনি। এমনকি প্রায় ৩০ শতাংশ প্রকাশকের পুরো মেলায় ৫ হাজার টাকার বইও বিক্রি হয়নি।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাত

রবিবার (১৫ মার্চ) মেলার শেষ দিন। তবে সমাপনী আয়োজনের আগে বড় ধাক্কা দিয়েছে প্রকৃতি। গত শুক্রবার সন্ধ্যার আকস্মিক বৃষ্টি আর ঝোড়ো হাওয়া বইমেলার দৃশ্যপট তছনছ করে দিয়েছে। শনিবার মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, উৎসবের আমেজ ছাপিয়ে প্রকাশকদের চোখেমুখে এখন শুধুই ক্ষয়ক্ষতির দুশ্চিন্তা আর হতাশা। বৃষ্টির পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে অসংখ্য নতুন বই। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও শনিবার মেলার তথ্যকেন্দ্রে নতুন বই জমা পড়েছে ১৫৭টি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রকাশকরা জানিয়েছেন, এবারের মেলায় তাদের আর্থিক ক্ষতি ব্যাপক মাত্রায় হয়েছে। অনেক প্রকাশক বলছেন, এই পরিস্থিতি আগামী বছরগুলোতে বইমেলার ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে শেষ দিনে কিছু দর্শনার্থীর উপস্থিতি আশার আলো দেখাচ্ছে, কিন্তু তা ক্ষতি পুষিয়ে দিতে যথেষ্ট নয় বলে মত প্রকাশকদের।