অমর একুশে বইমেলার দশম দিনে দর্শনার্থীদের ভিড়, কিন্তু বিক্রি নিয়ে প্রকাশকদের হতাশা
অমর একুশে বইমেলা পা রাখলো তার দশম দিনে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় আজ মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কেউ এসেছেন প্রিয়জনকে নিয়ে ঘুরতে, কেউবা এসেছেন পছন্দের লেখকের বই কিনতে। আবার অনেকে এসেছেন বই হাতে নিয়ে ছবি তুলতে। তবে দর্শনার্থীদের বিশাল সংখ্যার তুলনায় বই বিক্রির হার সন্তোষজনক নয় বলে হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেক প্রকাশক ও বিক্রেতা।
বিক্রি নিয়ে হতাশা ও রমজানের প্রভাব
প্রকাশকদের মতে, মেলায় আসার চেয়ে দেখার মানুষের সংখ্যাই বেশি। অনেকে বই হাতে নিয়ে ছবি তুলে ফ্রেমবন্দি হতেই বেশি আগ্রহী। প্রথমা প্রকাশনীর ডেপুটি ম্যানেজার বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ছুটির দিন হিসেবে আজ বিক্রি কিছুটা ভালো হলেও সামগ্রিকভাবে অন্য বছরের তুলনায় এবারের মেলায় বিক্রি অনেক কম। এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি রমজান মাসকে দায়ী করেন।
অক্ষরবৃত্ত প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী রাব্বি হাসান বলেন, “সারাদিন পর বিকালে কিছু লোক আসে। যে হারে বিক্রি হচ্ছে, তাতে স্টল বা দোকানের খরচ উঠবে কিনা তা নিয়ে আমরা সন্দিহান।”
ব্যতিক্রমী কিছু চিত্র
তবে সব স্টলের চিত্র এক নয়। ‘মোরাল প্যারেন্টিং পরিবার’ স্টলের সদস্য ইমরান হোসাইন জানান, তাদের স্টলে পাঠকদের ইতিবাচক সাড়া মিলছে। অনেকে আগ্রহ নিয়ে বই দেখছেন, কিনছেন এবং লেখকদের গল্প জানতে চাইছেন। তার মতে, মোরাল চাইল্ড ও মোরাল প্যারেন্টদের জীবনের সংগ্রামের গল্প, আত্মউন্নয়নের ভাবনা এবং নৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে লেখা বইগুলোর প্রতি মানুষের আগ্রহ রয়েছে। এছাড়া স্টলটিতে থাকা ইনোভেটিভ ফটো ফ্রেমটি মেলায় আগতদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
লেখক ও পাঠকদের প্রতিক্রিয়া
মেলায় দু’টি নতুন বই নিয়ে আসা লেখক বাদল সৈয়দ বলেন, “আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। তবে বইমেলা যদি জানুয়ারির শুরু থেকে আয়োজন করা হতো, তবে এটি আরও অনেক বেশি জমজমাট হতো।”
মেলায় আসা লালবাগের বাসিন্দা জয় চন্দ্র সরদার ফজলুল করিমের অনুদিত প্লেটোর ‘রিপাবলিক’ বইটি কিনেছেন। তিনি জানান, দর্শনের প্রতি আগ্রহ থাকায় মেলায় নিরিবিলি পরিবেশে বই দেখে কেনার সুযোগ পাচ্ছেন। অন্যদিকে উত্তরা থেকে সপরিবারে আসা সরকারি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন তার সন্তানদের ধ্রুপদি শিশুতোষ সাহিত্য কিনে দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, মেলায় আসার মাধ্যমে সন্তানদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠে।
মেলার সময়সূচি ও অংশগ্রহণ
উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচনের কারণে এ বছর ১ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে বইমেলা শুরু হয়েছে, যা চলবে ১৫ মার্চ পর্যন্ত। এবারের মেলায় মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৪৬৮টি স্টল রয়েছে। প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকলেও ছুটির দিনে মেলা শুরু হয় বেলা ১১টা থেকে।



