প্রকাশক ঐক্যের ঘোষণা প্রত্যাহার: সরকারের শর্ত মানায় বইমেলায় অংশ নিচ্ছে প্রকাশকরা
সরকার শর্ত মানায় বইমেলায় অংশ নিচ্ছে প্রকাশক ঐক্য

সরকারের শর্ত মানায় বইমেলায় অংশ নিচ্ছে প্রকাশক ঐক্য

বই প্রকাশকদের সংগঠন ‘প্রকাশক ঐক্য’ অমর একুশে বইমেলায় অংশ না নেওয়ার পূর্ব ঘোষণা থেকে সরে এসেছে। সংগঠনটি আজ সোমবার ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে। ইউপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন এ সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের সামনে বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন।

সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান

মাহরুখ মহিউদ্দিন জানান, গত শনিবার স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দে অস্বচ্ছতা এবং সময়স্বল্পতার কারণে বইমেলায় অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে গতকাল রাতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপস) মধ্যে একটি আন্তরিক সমঝোতা হয়েছে। এই সমঝোতার ফলে সরকার প্রকাশকদের শর্তগুলো মেনে নিয়েছে, যা সংগঠনটিকে তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে বাধ্য করে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রকাশক ঐক্য এবার বইমেলায় সবার সমান অধিকারের স্বার্থে কোনো প্যাভিলিয়ন নেবে না এবং অন্য কাউকেও প্যাভিলিয়ন না দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। যখন দেখা গেল প্যাভিলিয়ন ভাঙা হচ্ছে না এবং তাদের শর্ত মানা হচ্ছে না, তখনই তারা মেলায় না থাকার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে শর্ত মেনে নেওয়ায় এখন তারা মেলায় অংশ নিচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রকাশকদের দাবি ও আলোচনা

মাহরুখ মহিউদ্দিন প্রকাশকদের প্রাথমিক চাওয়া সম্পর্কে বলেন, বাস্তবতার নিরিখে বইমেলা ঈদের পর আয়োজন করার দাবি ছিল তাদের। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে তারা সাড়া পাননি। নতুন সরকার শপথ গ্রহণের পর সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী প্রকাশকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। এ সময় প্রকাশকেরা তিনটি শর্ত দিলে সরকার তা পূরণের আশ্বাস দেয়। এরপর দুই শতাধিক প্রকাশক চলতি মাসের ১৯ তারিখে আবেদন জমা দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আহমদ পাবলিশিং হাউজের প্রকাশক মেছবাহউদ্দীন, অ্যাডর্ন পাবলিকেশনের প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসাইন, বাতিঘর প্রকাশনীর প্রকাশক দীপঙ্কর দাশ এবং আদর্শ প্রকাশনীর মাহাবুব রাহমান প্রমুখ। তারা সকলেই এই সমঝোতাকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেন এবং বইমেলার সফল আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই ঘটনাটি প্রকাশকদের সংগঠিত আন্দোলন এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। বইমেলার প্রস্তুতি এখন পূর্ণ গতিতে এগিয়ে চলছে এবং প্রকাশকরা তাদের নতুন বই নিয়ে পাঠকদের সামনে হাজির হওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন।