চীনে ব্যবসার সফরে এক যুগ পর কলেজ বন্ধুর সাথে মধুর মিলন
চীনে এক যুগ পর বন্ধুর সাথে মধুর মিলনের গল্প

চীনে ব্যবসার সফরে এক যুগ পর কলেজ বন্ধুর সাথে মধুর মিলন

অফিসে বসে ল্যাপটপ খুলে মেইল চেক করার সময় হঠাৎ মোবাইলে কলেজ জীবনের এক বন্ধুর মেসেজ এল। ‘দোস্ত কেমন আছিস?’ – এই সরল প্রশ্নে মন ভরে গেল। সঙ্গে সঙ্গেই জবাব দিলাম, আর কুশল বিনিময়ের পর ফোনে কথা হলো। বন্ধু জানাল, সে দুই সপ্তাহ পর চীনের গুয়াংজু শহরে ব্যবসার কাজে আসছে।

অপ্রত্যাশিত সফরের সিদ্ধান্ত

এইচএসসি পাসের পর প্রায় এক যুগ ধরে আমাদের দেখা হয়নি। বন্ধু জোর দিয়ে বলল, ‘কোনো কথা শুনতে চাইনা, অবশ্যই আসবি দেখা করতে।’ উইকেন্ডে ছুটি দেখে আর দ্বিধা না করে টিকিট কেটে ফেললাম। ডালিয়ান থেকে গুয়াংজুর উদ্দেশে রওনা দিলাম, সঙ্গে নিলাম সমরেশ মজুমদারের উপন্যাস ‘কোথায় যাবে ছেলেটি’।

উড়ানপথের সাহিত্যিক অভিজ্ঞতা

প্লেনে চড়ে বসে বইটি খুললাম, যা চার বছর আগে বাংলাদেশের সীতাকুণ্ড থেকে পাওয়া। ব্যস্ততায় এতদিন অখোলাই ছিল। চার ঘণ্টার যাত্রায় একনিশ্বাসে পড়ে শেষ করলাম। ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলাম: ‘ইট টেকস ফোর ইয়ার্স টু ওপেন অ্যান্ড ফোর আওয়ার্স টু কমপ্লিট।’ বই শেষ হওয়ার সাথে সাথেই প্লেন গুয়াংজুতে ল্যান্ড করার ঘোষণা দিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গুয়াংজুতে আগমন ও বন্ধুর অপেক্ষা

রাত একটায় গুয়াংজু পৌঁছে হোটেলের গাড়িতে চড়ে বসলাম। আবহাওয়া বেশ গরম, যা ডালিয়ানের ঠান্ডা থেকে ভিন্ন। হোটেলে চেক ইন করে খাওয়া সেরে বন্ধুর জন্য অপেক্ষা শুরু করলাম। ভোর পাঁচটায় সে ইমিগ্রেশন শেষ করে হোটেলে এল। এক যুগ পর দেখা, দুজনই উচ্ছ্বসিত।

ব্যবসার মিটিং ও চীনা খাবারের স্বাদ

সকালে মুসলিম রেস্টুরেন্ট ‘লাংঝু লামিয়ান’-এ বিফ ডাম্পলিং খেতে খেতেই ব্যবসার পার্টনাররা এসে পৌঁছাল। ৭০ কিলোমিটার দূরের ফ্যাক্টরিতে মিটিং হলো, যা শেষ হতে বেলা তিনটা বেজে গেল। এরপর চীনা রেস্টুরেন্টে গেলাম, যেখানে সব খাবার সেদ্ধ বা আধা সেদ্ধ। চিকেন, মাটন, বিফ, ফিশ, ভেজিটেবল – নানা বাহারি নাম। আমি তৃপ্তি করে খেলাম, কিন্তু বন্ধুর কাছে মসলার অভাবে খাবারে গন্ধ লাগছিল।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শপিং ও বাংলাদেশি স্বাদের নস্টালজিয়া

হোটেলে ফিরে রেস্ট নিয়ে রাতের শপিংয়ে বের হলাম। একটি মলে গিয়ে বন্ধু ছোট রাইস কুকার কিনল, কারণ চীনা খাবার তার পছন্দ নয়। হোটেলে ফিরে সে রাইস কুকারে ডিম-কুমড়া রান্না করল, সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে আনা গরুর মাংসের আচার। ভর্তা আর আচার খেতে খেতে মনে হলো অমৃত খাচ্ছি।

স্থানীয় মার্কেট ও বিদায়ের মুহূর্ত

পরদিন Tong Tong মার্কেটে ঘুরে জামা-জুতার কেনাকাটা শেষ করলাম। বিকেল চারটায় হোটেলে ফিরে রেডি হয়ে এয়ারপোর্টের উদ্দেশে রওনা দিলাম, কারণ সন্ধ্যা সাতটায় আমার ফ্লাইট। বন্ধুর সঙ্গে কোলাকুলি করে ডালিয়ানের উদ্দেশে প্লেনে চড়ে বসলাম। পিছনে রইল মধুর স্মৃতি আর রাত জাগা গল্পের ভান্ডার।

ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কোনো টং চায়ের দোকানে বা ঝাঁ-চকচকে রেস্টুরেন্টে আবার দেখা হবে আশা রাখি। দূর পরবাসে জীবনের এই গল্প অমলিন থাকুক। পাঠকরা তাদের ভ্রমণ, ভিডিও, ছবি ও লেখা পাঠাতে পারেন নির্দিষ্ট ই-মেইলে।