ঈদের ছুটিতে গোয়াইনঘাটের পর্যটন কেন্দ্রে লাখো পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়
পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটিতে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে লাখো পর্যটকের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ঈদের দিন থেকে শুরু করে চতুর্থ দিন মঙ্গলবার পর্যন্ত প্রায় কয়েক লাখ পর্যটক এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসেছেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে মুগ্ধ পর্যটকরা
ভারতের মেঘালয়ের সবুজ পাহাড়, পাথর আর ঝর্ণার মোহনীয় দৃশ্য দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঈদের ছুটিতে পর্যটকরা গোয়াইনঘাটে ভ্রমণে আসেন। প্রকৃতি কন্যা খ্যাত জাফলং এই সময়ে সবচেয়ে বেশি পর্যটক আকর্ষণ করেছে, যেখানে সকাল থেকেই দলবেঁধে ঘুরতে বের হয়েছেন দর্শনার্থীরা। এছাড়াও প্রকৃতির অপ্সরা বলে পরিচিত বিছনাকান্দি ও জলারবন রাতারগুলেও পর্যটকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
অনেক পর্যটক পরিবার পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে এসে মেঘালয়ের পাহাড়, পাথর আর স্বচ্ছ জলের দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। কেউ কেউ নৌকা নিয়ে মায়াবী ঝর্ণা, খাসিয়া পল্লি আর চা-বাগান পরিদর্শনে বের হয়েছেন, আবার অনেকে ছবি তুলতে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। তবে মঙ্গলবার বিকালে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির কারণে কিছুটা ভোগান্তির শিকার হন পর্যটকরা।
স্থানীয় অর্থনীতিতে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য
পর্যটকদের এই ব্যাপক আগমনে গোয়াইনঘাটের স্থানীয় অর্থনীতিতে স্পষ্ট ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। নৌকা মাঝি, হোটেল-রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী, ট্যুর গাইড, ফটোগ্রাফার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্যতা। বেশিরভাগ হোটেল-মোটেলের ৮০ শতাংশ রুম আগে থেকেই বুকিং ছিল এবং রেস্টুরেন্টগুলোতেও ব্যস্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে।
বৃহত্তর জাফলং পর্যটনকেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সেলিম মাহমুদ জানান, "ঈদের ছুটিতে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরাও খুশি। পর্যটকদের সেবাদানে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।"
জাফলং পর্যটন কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হোসেন মিয়া উল্লেখ করেন, "ঈদের ছুটিতে জাফলংয়ে প্রচুর পর্যটক বেড়াতে এসেছেন। পুরো রমজান মাসজুড়ে বন্ধ থাকায় এবং পাহাড়ি ঢলে ব্যবসায়ীদের যে ক্ষতি হয়েছে, তা কিছুটা পুষিয়ে উঠা সম্ভব হয়েছে।"
পর্যটকদের নিরাপত্তায় জোরদার তৎপরতা
গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী জানান, পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তায় উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ জাফলং জোনের ইনচার্জ তপন তালুকদার বলেন, "পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেদিকে আমাদের লক্ষ রয়েছে।"
প্রতি বছরের মতো এবারের ঈদেও পর্যটকদের নিরাপত্তায় থানা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার, রোভারস্কাউটের সদস্যরা ও স্থানীয়রা ডুবুরিরা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
পর্যটকদের প্রতিক্রিয়া
রাজশাহী থেকে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বেড়াতে আসা সামাদ মিয়া বলেন, "ঈদের ছুটি পেয়ে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি। এখানকার পাহাড়, পাথর আর স্বচ্ছ জল দেখতে পেয়ে আমরা সত্যিই মুগ্ধ।"
দীর্ঘদিন পর বেচাকেনা ভালো হওয়ায় খুশিতে রয়েছেন এখানকার পর্যটন ব্যবসায়ীরা। দিনব্যাপী পর্যটকে ভরপুর থাকায় স্থানীয় অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত হয়েছে, যা এই অঞ্চলের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।



