ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম
পবিত্র রমজান মাসে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত প্রায় পর্যটকশূন্য থাকলেও, ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বিপুল সংখ্যক ভ্রমণপিপাসুদের আগমন ঘটছে। ইতিমধ্যে হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোর ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে, যা স্থানীয় পর্যটন শিল্পে নতুন প্রাণসঞ্চার করছে।
অগ্রিম বুকিং ও পর্যটক সংখ্যার পূর্বাভাস
কক্সবাজার হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান জানান, ঈদের পরদিন ২২ মার্চ থেকে পর্যটকরা আসতে শুরু করবেন এবং ২৯ মার্চ পর্যন্ত টানা ৮ দিন ধরে এই ধারা অব্যাহত থাকবে। তিনি অনুমান করেন, এই সময়ে অন্তত ৯ লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে আসবেন। প্রথম দিনেই ৭০-৮০ হাজার এবং পরবর্তীতে দৈনিক এক লাখ পর্যটকের আগমন ঘটতে পারে।
তারকা মানের ৩০টির বেশি হোটেল-রিসোর্টে ৯৫ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়েছে, অন্যদিকে সাধারণ মানের পাঁচ শতাধিক হোটেল, গেস্টহাউস ও কটেজের ৭০ শতাংশ কক্ষ ভাড়া হয়ে গেছে। গড়ে ৮০ শতাংশ কক্ষ ইতিমধ্যে বুকিং সম্পন্ন হয়েছে, যা ঈদ পরবর্তী সময়ে পর্যটন ব্যবসায় চাঙা ভাব ফিরিয়ে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পর্যটক বরণের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
পর্যটকদের স্বাগত জানাতে হোটেল, রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে। সৈকতে কিটকট ব্যবসায়ীরা চেয়ার মেরামত করছেন এবং রেস্তোরাঁগুলো ধোয়া-মোছার কাজে ব্যস্ত। তবে, বিপুল সংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা নিয়ে কিছু উদ্বেগ রয়েছে। সি-সেফ লাইফ গার্ডের ব্যবস্থাপক ইমতিয়াজ আহমদ উল্লেখ করেন, কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত ২৭ জন লাইফ গার্ড থাকলেও দরিয়ানগর, হিমছড়ি, ইনানী, পাটোয়ারটেক, বাহারছড়া ও টেকনাফ সৈকতে পর্যাপ্ত উদ্ধার তৎপরতার জন্য কর্মী নেই।
হোটেল ব্যবস্থাপনা ও মূল্য নীতি
রোজার মাসে পর্যটক আকর্ষণ করতে হোটেল কক্ষের ভাড়ায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ঈদের পরদিন থেকে সেই ছাড় প্রত্যাহার করে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। পাঁচ শতাধিক হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউসের দৈনিক ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার। হোটেল কর্মচারীরা ঈদের পর থেকে পূর্ণোদ্যমে কাজে ফিরে পর্যটকদের সেবা দিতে প্রস্তুত।
কল্লোল, সি-গাল, জলতরঙ্গ, কক্স-টু ডে, সায়মান বিচ রিসোর্ট, মারমেইড বিচ রিসোর্ট, ওশান প্যারাডাইস, বে-ওয়াচ, রয়েল টিউলিপসহ অন্তত ৩০টি তারকা হোটেল-রিসোর্টে ৯০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়েছে। মারমেইড বিচ রিসোর্টের ব্যবস্থাপক ইয়াসির আরাফাত রিশাদ বলেন, তাদের রিসোর্টে ঈদ পরবর্তী ৮ দিনের ৯৫ শতাংশ কটেজ বুকিং করা আছে।
ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভাব
কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবদুস শুক্কুরের মতে, ঈদের ছুটির ৮ দিনে ১০ লাখ পর্যটকের আগমন আশা করা হচ্ছে, যা হোটেল, রেস্তোরাঁ, দোকানপাট, শুঁটকি ও সামুদ্রিক মাছসহ ১৩টি খাতে ৭০০-৮০০ কোটি টাকার ব্যবসা তৈরি করতে পারে। রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাবেদ ইকবাল নিশ্চিত করেছেন, খাবারের অতিরিক্ত মূল্য আদায় রোধে তদারকি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং মূল্যতালিকা টেবিলে প্রদর্শন করা হবে।
সামগ্রিকভাবে, ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে ব্যাপক সাড়া পড়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



