ঈদের আগের দিন কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীশূন্য প্ল্যাটফর্ম
ঈদের আগের দিন শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীর চাপ নেই বললেই চলে। নেই শিডিউল বিপর্যয়ও। অধিকাংশ ট্রেনের আসন ফাঁকা থাকায় নির্ধারিত সময়ের বাইরেও যাত্রী তুলতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অথচ গত চার দিন টিকিট কাউন্টার থেকে প্ল্যাটফর্ম—সবখানেই ছিল উপচে পড়া ভিড়।
যাত্রী সংকটে নীলসাগর এক্সপ্রেস বাতিল
এদিকে, যাত্রী সংকটের কারণে শুক্রবার উত্তরবঙ্গগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিনা টিকিটে ভ্রমণ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের নিরাপত্তায় সতর্ক রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
কর্তৃপক্ষ জানায়, গত চার দিনে ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক চাপ থাকলেও শেষ দিনে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক। অনেকে শুক্রবার ঈদ হবে ধরে আগেই বাড়ির পথে রওনা দেওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তারা আরও জানান, ২৯ রমজানকে ঘিরেই যাত্রীরা বেশি টিকিট কেটেছেন।
যাত্রীদের অভিজ্ঞতা
খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেসের একাধিক যাত্রী জানান, শেষ দিনে চাপ কম থাকায় তারা স্বস্তিতে ভ্রমণ করছেন। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জগামী তিস্তা ঈদ স্পেশাল ট্রেনের যাত্রী মীর সোহেল বলেন, "অন্যান্য ঈদের মতো শেষ দিনে তেমন ভিড় নেই। অধিকাংশ আসন ফাঁকা রয়েছে।"
পঞ্চগড়গামী একটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রী মেঘলা বেগম বলেন, "নির্ধারিত সময় ঘনিয়ে এলেও পর্যাপ্ত যাত্রী হয়নি। এতে সময়মতো ট্রেন ছাড়বে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।"
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
কমলাপুর রেলওয়ের স্টেশন ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, "অনেক যাত্রী আগেই বাড়ি চলে যাওয়ায় আজ চাপ কম। যাত্রী সংকটের কারণে নীলসাগর এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। বিকালের দিকে চাপ আরও কমে যাবে বলে আমি আশা করছি।"
ঈদযাত্রার শুরুতে গত ১৬ মার্চ রাত থেকে কমলাপুর স্টেশনে যাত্রীর তীব্র চাপ দেখা যায়। প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে ছিল উপচে পড়া ভিড়। অনেক ট্রেনে আসন সংকটের কারণে যাত্রীরা ছাদে করেও বাড়ি ফিরেছেন।



