অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বের দীর্ঘতম রেল টানেল: সিডনি-নিউ ক্যাসেল যাত্রা ৬০ মিনিটে
অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বের দীর্ঘতম রেল টানেল নির্মাণ

অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বের দীর্ঘতম রেল টানেল নির্মাণের উদ্যোগ

অস্ট্রেলিয়ার অবকাঠামো ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। সিডনি থেকে নিউ ক্যাসেল পর্যন্ত প্রস্তাবিত দ্রুতগতির রেল প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হতে যাচ্ছে বিশ্বের দীর্ঘতম রেল টানেল। এই প্রকল্পটি দেশের যাতায়াতব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশা প্রকাশ করেছেন।

প্রকল্পের বিশদ বিবরণ

১৯৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেললাইনের প্রায় ৬০ শতাংশই থাকবে মাটির নিচে। প্রকল্পের নকশা অনুযায়ী, একটি টানা ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গপথ নির্মাণ করা হবে। এটি বর্তমান বিশ্বের দীর্ঘতম রেল টানেল সুইজারল্যান্ডের ‘গোথার্ড বেস টানেল’–এর ৫৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যকে ছাড়িয়ে যাবে। এই অত্যাধুনিক ভূগর্ভস্থ পথ দিয়ে ৩২০ কিলোমিটার বেগে ছুটবে ট্রেন, যার ফলে সিডনি থেকে নিউ ক্যাসেলের বর্তমান আড়াই ঘণ্টার পথ মাত্র ৬০ মিনিটে নেমে আসবে।

অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ এই প্রকল্পকে অস্ট্রেলিয়ার জন্য অত্যন্ত জরুরি বলেছেন। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯ হাজার ৩০০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকার বেশি। প্রকল্পটি শুরু করতে ইতিমধ্যে ৬৬ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার বা প্রায় ৫ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যাতায়াতব্যবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তনের পাশাপাশি এই টানেল ও রেল প্রকল্প সিডনির উত্তর অংশের আবাসন ও কর্মসংস্থানে ব্যাপক জোয়ার আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে এবং পরিবহন খাতের আধুনিকীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রবাসীদের প্রতিক্রিয়া

এই ঐতিহাসিক প্রকল্প নিয়ে সিডনিপ্রবাসী বোরহান খান লিমন বলেন, ‘সিডনিতে বিশ্বের দীর্ঘতম রেল টানেল হওয়ার খবরটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। এটি কেবল যাতায়াত সহজ করবে না, বরং আধুনিক প্রকৌশল বিদ্যায় অস্ট্রেলিয়ার সক্ষমতা বিশ্বমঞ্চে নতুনভাবে তুলে ধরবে।’

অন্যান্য প্রবাসীরাও এই প্রকল্পকে অস্ট্রেলিয়ার উন্নয়নের একটি মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তারা মনে করেন, এটি দেশের অবকাঠামো খাতের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং বিশ্বব্যাপী অস্ট্রেলিয়ার প্রযুক্তিগত দক্ষতার পরিচয় দেবে।