অসহায় মানুষকে সাহায্য করতে চাঁদাবাজি করা কি ইসলামে জায়েজ?
একজন রাজনীতিকের প্রশ্নের আলোকে ইসলামী বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করেছেন যে, অসহায় মানুষকে সাহায্য করা অত্যন্ত পুণ্যের কাজ হলেও চাঁদাবাজির মাধ্যমে তা করা ইসলামী শরিয়তে জায়েজ নয়। প্রশ্নটি ছিল: "আমি একজন রাজনীতিক। আমার এলাকায় অনেক অসহায় মানুষ আছে। আমি এলাকার বিত্তবান লোকদের থেকে চাঁদা নিয়ে এসব অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করে থাকি। এভাবে চাঁদাবাজি করে অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করা কি জায়েজ?"
অসহায়দের সাহায্য করা ইসলামের শিক্ষা
উত্তরে ইসলামী বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, অসহায় মানুষের সহযোগিতা করা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল। উম্মুল মুমিনিন হজরত খাদিজা (রা.) নবীজির বিশেষ গুণাবলি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: "আপনি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করেন, অসহায় লোকদের ভার বহন করেন, নিঃস্ব লোকদের উপার্জন করে দেন, অতিথিদের আপ্যায়ন করেন এবং বিপদাপদে পতিত মানুষকে সাহায্য করেন।" (সহিহ বুখারি, ০৩)। সুতরাং, অসহায় লোকদের সহযোগিতা করা খুবই ভালো কাজ হিসেবে বিবেচিত হয়।
চাঁদাবাজি কেন জায়েজ নয়?
তবে ইসলামী বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, অসহায় মানুষকে সাহায্য করার পদ্ধতি অবশ্যই শরিয়ত-সমর্থিত হতে হবে। চাঁদাবাজি শরিয়ত-সমর্থিত কোনো পন্থা নয়, কারণ এতে মানুষ সাধারণত আন্তরিক সন্তোষের সঙ্গে টাকাপয়সা দেয় না; বরং চাপের শিকার হয়ে কিংবা চক্ষুলজ্জার কারণে দিয়ে থাকে। রাসুল (সা.) বলেছেন: "কারও সম্পদ তার আন্তরিক সন্তোষ ছাড়া হালাল নয়।" (মুসনাদে আহমাদ, ২০৬৯৫)। তাই, কারও থেকে চাপ বা লজ্জার মাধ্যমে টাকাপয়সা নেওয়া জায়েজ নয়, এমনকি তা অসহায় মানুষকে সাহায্যের উদ্দেশ্যেও হোক না কেন।
জায়েজ পন্থা কী?
ইসলামী বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মানুষের প্রতি উন্মুক্ত আহ্বান জানানো যেতে পারে। যদি কেউ চাপ বা লজ্জা অনুভব না করে স্বেচ্ছায় টাকাপয়সা দেয়, তবে সেই অর্থ দিয়ে অসহায় মানুষকে সাহায্য করা জায়েজ হবে। এই পদ্ধতি শরিয়তের নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং এটি নিঃস্বার্থ দানের মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখে।
সূত্র হিসেবে ইসলামী গ্রন্থ যেমন সুনানুদ দারাকুতনি, ইহইয়াউল উলুম এবং শারহু মুখতাসারিত ত্বহাবি উল্লেখ করা হয়েছে, যা এই বিষয়ে আরও গভীর দিকনির্দেশনা প্রদান করে।



