সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানো নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিলেন কাবার ইমাম
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও যাচাইবিহীন তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন পবিত্র মক্কার মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ সালেহ বিন হুমাইদ। তিনি বলেছেন, যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকে বা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিতে সহায়তা করে, তাদের প্রত্যেককে নৈতিকভাবে এর দায়ভার বহন করতে হবে।
জুমার খুতবায় সতর্কতা
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মসজিদুল হারামে জুমার খুতবা দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। খুতবায় শায়খ সালেহ বিন হুমাইদ বলেন, কঠিন সময়ের মাধ্যমেই একজন মানুষের প্রকৃত চরিত্র ফুটে ওঠে। তিনি মুসল্লিদের পার্থিব বিষয়ে মত্ত না হয়ে আত্মিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সত্যের পথে অবিচল থাকার আহ্বান জানান।
তিনি সতর্ক করে বলেন, মিথ্যা তথ্য প্রচার শুধু ব্যক্তি বা সমাজের ক্ষতি করে না, বরং এটি একটি বড় পাপ। জনমত যাই হোক না কেন, সমাজকে সত্য ও সততা বজায় রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
সৌদি কর্তৃপক্ষের অবস্থান
সৌদি কর্তৃপক্ষও বারবার এ ধরনের সতর্কবার্তা দিয়ে আসছে। দেশটির পাবলিক প্রসিকিউশন স্পষ্ট করেছে যে, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে এমন গুজব ছড়ানো একটি গুরুতর অপরাধ। আইন অনুযায়ী, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য তৈরি, শেয়ার বা প্রচার করবে, তাদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জেল এবং ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল (প্রায় ৮ লাখ ডলার) পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। এছাড়া অপরাধে ব্যবহৃত ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোও বাজেয়াপ্ত করা হবে।
অতীতের উদাহরণ ও করণীয়
গত কয়েক বছরে বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময় স্বাস্থ্যবিধি বা গ্র্যান্ড মসজিদের পরিস্থিতি নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর দায়ে অনেকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ সাধারণ মানুষকে কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে তা সরকারি ও নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে যাচাই করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। এমনকি কোনো গুজব বা ভিত্তিহীন তথ্য কেবল নিজেদের ডিভাইসে সংরক্ষণ করা বা রিপোস্ট করাও আইনিভাবে অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এই সতর্কবার্তা মুসলিম বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং ডিজিটাল যুগে সততা ও দায়িত্বশীলতার গুরুত্বকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।



