লাইলাতুল কদরের দোয়া ও আমল: হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রাতের ইবাদত
লাইলাতুল কদরের দোয়া ও আমল: হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রাত

লাইলাতুল কদর: হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রাতের মাহাত্ম্য

শবে কদর, যা লাইলাতুল কদর নামে পরিচিত, এর অর্থ হলো মর্যাদাপূর্ণ রাত বা ভাগ্যরজনী। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। পবিত্র কুরআনুল কারিম এই রাতে নাজিল হওয়ার মাধ্যমে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এটিকে মানবজাতির জন্য বিশেষ সম্মানিত রাত হিসেবে দান করেছেন। প্রতিবছর রমজান মাসের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোর মধ্যে কোনো এক রাত হলো লাইলাতুল কদর, যা ভাগ্য নির্ধারণের রাত হিসেবেও পরিচিত।

কুরআন ও হাদিসে লাইলাতুল কদরের বর্ণনা

আল্লাহতায়ালা সুরা আল কদরে বলেন: ‘নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাজিল করেছি মর্যাদাপূর্ণ কদর রজনীতে। আপনি কি জানেন, মহিমাময় কদর রজনী কী? মহিমান্বিত কদর রজনী হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। সে রাতে ফেরেশতাগণ হজরত জিবরাইল আলাইহিস সালামকে সমভিব্যহারে অবতরণ করেন; তাঁদের প্রভু মহান আল্লাহর নির্দেশ ও অনুমতিক্রমে, সব বিষয়ে শান্তির বার্তা নিয়ে। এই শান্তির ধারা চলতে থাকে উষা বা ফজর পর্যন্ত।’

রমজানের শেষ দশদিনের যেকোনো বিজোড় রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করা যায়, যেমন ২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯ রমজান দিবাগত রাতগুলো। তবে অনেক আলেম ও বুজুর্গদের মতে, ২৬ তারিখ দিবাগত রাত অর্থাৎ সাতাশ তারিখে শবে কদরের অন্যতম সম্ভাব্য রাত হিসেবে গণ্য করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

লাইলাতুল কদরের বিশেষ দোয়া

হযরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণনা করেন, তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমি লাইলাতুল কদর কোন রাতে হবে তা জানতে পারি, তাতে আমি কী দোয়া পড়বো?’ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ‘তুমি বলবে: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আ’ফুয়্যুন; তুহিব্বুল আ’ফওয়া; ফা’ফু আ'ন্নী।’ এর অর্থ হলো: ‘হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল; ক্ষমা করতে ভালোবাসেন; অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।’ এই দোয়াটি মুসনাদে আহমাদ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজি ও মিশকাত সহ বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শবে কদরের আমলসমূহ

লাইলাতুল কদর পেলে নিম্নলিখিত আমলগুলো পালন করা জরুরি:

  1. নফল নামাজ পড়া।
  2. মসজিদে প্রবেশ করেই দুখুলিল মাসজিদ নামাজ (২ রাকাত) পড়া।
  3. মাগরিবের পর আউওয়াবিনের নামাজ (৬ রাকাত) পড়া।
  4. রাতে তারাবির নামাজ পড়া।
  5. সাহরির আগে শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া।
  6. সম্ভব হলে সালাতুত তাসবিহ, তাওবার নামাজ, সালাতুল হাজাত ও সালাতুশ শোকর পড়া।
  7. অন্যান্য নফল নামাজ বেশি বেশি পড়া।
  8. কুরআন তেলাওয়াত করা, বিশেষত সুরা কদর, সুরা দুখান, সুরা মুয্যাম্মিল, সুরা মুদ্দাসির, সুরা ইয়াসিন, সুরা ত্বহা, সুরা আর-রাহমান, সুরা ওয়াকিয়া, সুরা মুলক, সুরা কুরাইশ এবং ৪ কুল পড়া।
  9. দরূদ শরিফ পড়া।
  10. তাওবাহ-ইসতেগফার ও সাইয়্যেদুল ইসতেগফার পড়া।
  11. জিকির-আজকার করা।
  12. কুরআন ও সুন্নায় বর্ণিত দোয়াপড়া।
  13. পরিবার পরিজন, বাবা-মা ও মৃতদের জন্য দোয়া করা এবং কবর জেয়ারত করা।
  14. বেশি বেশি দান-সদকা করা।

এই আমলগুলো পালনের মাধ্যমে মুমিন বান্দা লাইলাতুল কদরের রহমত ও বরকত লাভ করতে পারেন, যা তাদের আধ্যাত্মিক জীবনকে সমৃদ্ধ করে। রমজান মাসের এই বিশেষ রাতটি ইবাদত ও তাওবার মাধ্যমে কাটানো উচিত, যাতে আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়।