বিয়ের সময় দ্বিতীয় বিয়ে না করার শর্ত দেওয়া যাবে? ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি
প্রকাশ: ০৯ মার্চ ২০২৬, ১২:২৪ পিএম। ইসলামিক আইন ও জীবনধারা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠেছে: বিয়ের সময় দ্বিতীয় বিয়ে না করার শর্ত দেওয়া যাবে কি না? এই বিষয়ে মুফতি জাওয়াদ তাহেরের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ইসলামিক শরিয়তের দৃষ্টিতে এমন শর্তারোপ গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্নটি ছিল: "আমি কি কাউকে বিয়ের আগে এই শর্ত দিতে পারব যে আমি ছাড়া আর কাউকে তিনি বিয়ে করতে পারবে না এই ওয়াদা করতে হবে? ওয়াদা রক্ষা না করলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।"
উত্তরে মুফতি জাওয়াদ তাহের স্পষ্ট করেছেন: বিয়ের সময় কনের পক্ষ থেকে পাত্রের উপর দ্বিতীয় বিবাহ না করার শর্তারোপ করা শরিয়তের পরিপন্থী। যদি কেউ এই শর্তে বিয়ে করে যে পাত্র দ্বিতীয় বিবাহ করতে পারবে না, তাহলে বিয়ে হয়ে যাবে, কিন্তু আরোপিত শর্তটি বাতিল হয়ে যাবে। কারণ, বিবাহের মাঝে বিয়ের পরিপন্থী কোনো শর্তারোপ করলে বিয়ে বাতিল হয় না।
ইসলামে বহুবিবাহের বিধান
ইসলামিক শরিয়তে, আল্লাহ তায়ালা একজন পুরুষকে স্ত্রীদের মাঝে ন্যায়-নিষ্ঠা বজায় রাখার শর্তে একত্রে সর্বোচ্চ চারটি বিবাহের অনুমতি দিয়েছে। তবে যদি ইনসাফ বজায় রাখতে না পারে, তাহলে একটির বেশি নয়।
আল্লাহ তায়ালা বলেন: "তোমরা যদি আশংকা বোধ কর যে, এতিমদের প্রতি ইনসাফ রক্ষা করতে পারবে না, তবে (তাদেরকে বিবাহ না করে) অন্য নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের পছন্দ হয় বিবাহ কর দুই-দুইজন, তিন-তিনজন অথবা চার-চারজনকে। অবশ্য যদি আশংকা বোধ কর যে, তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) মধ্যে সুবিচার করতে পারবে না, তবে এক স্ত্রীতে অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীতে (ক্ষান্ত থাক)। এতে তোমাদের পক্ষপাতিত্ব না করার সম্ভাবনা বেশি।" (সুরা নিসা, আয়াত: ৩)
হাদিসের বর্ণনা
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, কারও যদি একাধিক স্ত্রী থাকে আর সে তাদের প্রতি সমতাপূর্ণ আচরণ না করে, তবে কিয়ামতের দিন সে পক্ষাঘাতগ্রস্ত অবস্থায় উত্থিত হবে। এটি ন্যায়-নিষ্ঠার গুরুত্বকে তুলে ধরে।
সামাজিক প্রেক্ষাপট
ইসলামে বহুবিবাহের বিধান সামাজিক চাহিদার সঙ্গে খুবই সংগতিপূর্ণ। অবস্থা বিশেষে ব্যক্তিচরিত্রের হেফাজত, সামাজিক শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা, পুরুষের পিতৃত্ব ও নারীর মাতৃত্ব-চাহিদা পূরণ ইত্যাদি বহুবিধ প্রয়োজনে পুরুষের বহুবিবাহ একটি নির্বিকল্প সাধু ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়।
নারীর জন্য এ ব্যবস্থা দেওয়া হয়নি, কারণ বহুস্বামীর স্ত্রী হওয়াটা নারীর পক্ষে মর্যাদাকর নয় এবং এটি তার গর্ভজাত সন্তানের পিতৃ-পরিচয়কেও অনিশ্চিত করে দেয়। সুতরাং এ ব্যবস্থায় পুরুষের পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি; বরং নর-নারীর অবস্থানগত প্রভেদকে মূল্য দেওয়া হয়েছে। (তাওজিহুল কুরআন)
সর্বোপরি, ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, বিয়ের সময় দ্বিতীয় বিয়ে না করার শর্ত দেওয়া যাবে না, এবং এটি শরিয়তের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হয়।



