রমজানে তারাবির নামাজের গুরুত্ব ও আদায়ের নিয়ম
পবিত্র রমজান মাসের একটি বিশেষ ইবাদত হলো তারাবির নামাজ। এই নামাজ প্রতিদিন এশার ফরজ ও সুন্নত নামাজের পর এবং বিতরের আগে আদায় করা হয়। ২০ রাকাত তারাবির নামাজ আদায় করা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ, যা গুরুত্বের দিক থেকে ওয়াজিবের কাছাকাছি বলে বিবেচিত। ওজর বা অপারগতা ছাড়া তারাবির নামাজ পরিত্যাগ করা উচিত নয়।
জামাতে অংশগ্রহণ না করতে পারলে করণীয়
অনেক সময় ব্যস্ততার কারণে নির্ধারিত সময়ে তারাবির নামাজের জন্য মসজিদে যেতে পারেন না। আবার অনেককে দেখা যায়, তারাবির নামাজ কয়েক রাকাত পড়ার পর মসজিদে যাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে তারাবির নামাজ জামাতে এক রাকাত পেলে অথবা কয়েক রাকাত জামাতে না পেলে এবং সন্ধ্যা রাতে পড়তে না পারলে করণীয় কী?
উত্তর: তারাবিহর নামাজ দুই-দুই রাকাত করে পড়া হয়। যদি কেউ জামাতে এক রাকাত পান, তাহলে বাকি এক রাকাত ইমামের সালাম ফেরানোর পর মাসবুকের সুরতে ফরজ নামাজের মতো একাকি পড়ে নেবেন। এই রাকাতে সুরা ফাতিহার পর যে কোনো সুরা পড়তে পারবেন।
তারাবিহর নামাজের দুই রাকাত বা ততধিক রাকাত জামাতে না পেলে এবং জামাত শেষ হয়ে গেলে বাকি তারাবিহ একাকি পড়ে নেবেন। যে কোনো সুরা দিয়ে পড়তে পারবেন।
রাতে পড়তে না পারলে বিকল্প উপায়
কোনো পুরুষ বা নারী যে কোনো কারণে সন্ধ্যা রাতে তারাবিহ সম্পূর্ণ বা আংশিক পড়তে না পারলে সেহরির সময় যতক্ষণ থাকে, এর মধ্যে যে কোনো সময় তারাবিহর নামাজ পড়তে পারবেন। এমনকি বিতর নামাজ পড়ার পরও তারাবির নামাজ পড়া যাবে। ফতোয়ায়ে শামি গ্রন্থে এ বিষয়ে উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়াও আরও কিছু উপায় আছে সেগুলো নিচে উল্লেখ করা হলো:
- একাকী আদায়: মসজিদে না পড়তে পারলে ঘরে একাকি বা পরিবার নিয়ে জামাতে তারাবিহ পড়ুন।
- দেরিতে মসজিদে যোগদান: মসজিদে তারাবিহ শুরু হয়ে গেলে এশার ফরজ নামাজ শেষে তারাবিহতে যোগ দিন।
- রাত জেগে পড়া: রাতের যে কোনো অংশে, এমনকি সেহরির আগে পড়লেও তারাবিহর সওয়াব পাওয়া যাবে।
কাজা ও গুনাহ সম্পর্কে সতর্কতা
কোনো কারণে রাতে একেবারেই না পড়তে পারলে তারাবিহ নামাজের কাজা নেই, তবে এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা হওয়ায় না পড়লে গুনাহ হতে পারে। ভুলে গেলে বা অপারগ হলে এটি নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে নফল ইবাদতের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণ করার চেষ্টা করুন।
রমজান মাসে তারাবির নামাজের এই বিধানগুলো মেনে চললে ইবাদতের পূর্ণতা লাভ করা সম্ভব।



