ইফতারের আগের ১০ মিনিট: দোয়া কবুলের সোনালি সময় কীভাবে কাজে লাগাবেন?
রমজান মাসে মুসলিমদের জন্য ইফতারের সময়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আজান হওয়ার ঠিক আগের ১০ মিনিটকে ইসলামে দোয়া কবুলের সোনালি সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু অনেকেই এই মূল্যবান মুহূর্ত রান্নাঘরের ব্যস্ততা বা টেবিল সাজানোর কাজে নষ্ট করে ফেলেন। ফলে হাতছাড়া হয়ে যায় সারা দিনের সবচেয়ে শক্তিশালী ইবাদতের সুযোগ।
দোয়া কবুলের বিশেষ সময় কেন?
নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া ফেরত যায় না— ১. রোজাদার যতক্ষণ না সে রোজা ভাঙে, ২. ন্যায়পরায়ণ শাসক, ৩. মজলুমের দোয়া।’ (ইবনে মাজাহ ১৭৫২)। এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, রোজাদারের দোয়া বিশেষভাবে কবুল হয়। আর ইফতারের ঠিক আগে, যখন আজান হতে ৫-১০ মিনিট বাকি, তখন এই দোয়ার গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পায়। নবীজি (সা.) আরও উল্লেখ করেছেন, ‘রোজাদারের জন্য ইফতারের সময় একটি দোয়া আছে যা ফেরত যায় না।’ অর্থাৎ, এই মুহূর্তে যা চাওয়া হবে, আল্লাহ তা পূরণ করতে পারেন।
ইফতারের আগের ১০ মিনিটে করণীয়
এই সময়টিকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
- সব কাজ থামিয়ে দিন— হাত তুলুন: আজান হওয়ার ১০ মিনিট আগে রান্না, টেবিল সাজানো বা অন্য যেকোনো কাজ বন্ধ করুন। ওজু করে পরিষ্কার স্থানে বসুন, কিবলামুখী হন, দুই হাত তুলে মনোযোগ সহকারে দোয়া শুরু করুন।
- আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে শুরু করুন: প্রথমে ‘আলহামদুলিল্লাহ, সুবহানাল্লাহ, আল্লাহু আকবার ও লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়ুন। তারপর দরূদ শরিফ পাঠ করুন: ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ।’
- মনে যা চায় আল্লাহর কাছে চান: কোনো কিছু লুকাবেন না। ঋণ শোধ, সন্তানের হেদায়েত, সুস্থতা, বাবা-মায়ের জন্য জান্নাত, ভালো চাকরি—যা প্রয়োজন, সবই বলুন। আল্লাহ শুনছেন এবং দেবেন বলে বিশ্বাস রাখুন।
- ক্ষমা চেয়ে শেষ করুন: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওউন তুহিব্বুল আফওয়া ফা’ফু আন্নি’ (হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, অতএব আমাকে ক্ষমা করুন) পড়ুন। তারপর আবার দরূদ পড়ে আমিন বলে দোয়া শেষ করুন।
- রোজা ভাঙার দোয়া পড়ুন: ইফতার করার সময় ‘আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিযক্বিকা আফতারতু’ (হে আল্লাহ! আপনার জন্যই রোজা রেখেছি এবং আপনার দেওয়া রিজিক দিয়ে ইফতার করছি) পাঠ করুন।
মনে রাখার বিষয়
ইফতারের আগের ১০ মিনিট সারা দিনের সবচেয়ে মূল্যবান সময়। এই সময় অবহেলা করে রান্নাঘরে বা টেবিল সাজানোর কাজে নষ্ট করবেন না। খাবার সাজানো আগেই শেষ করুন, আজান হওয়ার ১০ মিনিট আগে সব কাজ থামিয়ে হাত তুলুন এবং দোয়া করুন। মন খুলে আল্লাহর কাছে চাইলে, তিনি বান্দার সব চাওয়া পূরণ করবেন ইনশাআল্লাহ।



