প্রতি রাতে ১০০ কুরআন আয়াত তিলাওয়াতের আমল
জিলহজ্জ মাস আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় দিনগুলোর সমষ্টি। এই মাসে প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি করা হয়। তাই একজন মুমিনের জন্য এটি আত্মশুদ্ধি, ইবাদত, তাওবা এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক মহাসুযোগ। বর্তমান ব্যস্ত জীবনে আমরা দুনিয়ার কাজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করি, কিন্তু কুরআনের জন্য কয়েক মিনিটও বের করতে পারি না। অথচ কুরআনই হৃদয়ের প্রশান্তি, আত্মার খাদ্য এবং হেদায়াতের উৎস। এই জিলহজ্জে আমরা প্রতিরাতে অন্তত ১০০ আয়াত তিলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারি।
১০০ আয়াত পাঠের ফজিলত
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: 'যে ব্যক্তি রাতে ১০ আয়াত পাঠ করবে, তাকে গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ১০০ আয়াত পাঠ করবে, তাকে অনুগত ও আল্লাহভীরু বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।' (আবু দাউদ ১৩৯৮)
কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার আহ্বান
আল্লাহ তাআলা বলেন: 'নিশ্চয়ই এই কুরআন এমন পথের দিশা দেয় যা সর্বাধিক সরল ও সঠিক।' (সুরা আল-ইসরা: আয়াত ৯) আরও ইরশাদ হয়েছে: 'আর তুমি কুরআন ধীরে ধীরে, স্পষ্টভাবে তিলাওয়াত কর।' (সুরা আল-মুযযাম্মিল: আয়াত ৪)
কেন ১০০ আয়াত?
১০০ আয়াত তিলাওয়াত করা খুব কঠিন নয়। প্রতিদিন মাত্র ১৫-২০ মিনিট সময় দিলেই এই আমল সম্পন্ন করা সম্ভব। এর প্রতিদান অসাধারণ:
- গাফেলদের তালিকা থেকে মুক্তি
- অনুগত বান্দাদের অন্তর্ভুক্তি
- কুরআনের সঙ্গে হৃদয়ের সম্পর্ক বৃদ্ধি
- ঈমান ও তাকওয়ার উন্নতি
- জিলহজ্জের বরকতময় সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহার
আজকের অঙ্গীকার
এই জিলহজ্জে প্রতিদিন অন্তত ১০০ আয়াত তিলাওয়াত করব। হয়তো এই সামান্য আমলই আমাদের জন্য আখিরাতে নাজাতের কারণ হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের কুরআনের মানুষ হিসেবে কবুল করুন এবং কুরআনকে আমাদের হৃদয়ের বসন্ত, চোখের শীতলতা ও নাজাতের মাধ্যম বানিয়ে দিন। জিলহজ্জের দিনগুলো দ্রুত চলে যাচ্ছে। আমরা জানি না আগামী বছর এই মাস আবার পাব কি না। তাই আসুন, অবহেলা নয়— কুরআনের আলোয় জীবন আলোকিত করি। প্রতিদিন ১০০ আয়াত তিলাওয়াতের এই ছোট্ট আমল আমাদের আল্লাহর নৈকট্য, রহমত ও সন্তুষ্টির পথে এগিয়ে নিয়ে যাক। আজ রাত থেকেই শুরু হোক— ১০০ আয়াতের এক বরকতময় যাত্রা।



