হিজরি সনের ১২ মাসের মধ্যে চারটি মাস বিশেষ মর্যাদাসম্পন্ন, যার অন্যতম হলো জিলহজ মাস। পবিত্র কুরআনে আল্লাহতায়ালা বলেছেন, প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারোটি, যা আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী সেই দিন থেকে চালু আছে, যেদিন আল্লাহতায়ালা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন। এর মধ্যে চারটি মাস মর্যাদাপূর্ণ। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। (সূরা- তাওবাহ, আয়াত-৩৬) এই চার মাস হলো জিলকদ, জিলহজ, মহররম ও রজব। এসব মাসে যুদ্ধবিগ্রহ, কলহ-বিবাদ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
জিলহজ মাসের গুরুত্ব ও কুরবানি
জিলহজ মাসের অন্যতম প্রধান ইবাদত হলো আল্লাহর জন্য পশু কুরবানি। হজরত ইবরাহিম (আ.) ও তার পুত্র ইসমাঈল (আ.)-এর আত্মত্যাগ স্মরণ করে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন মানুষকে পশু কুরবানির বিধান দিয়েছেন। কুরবানি শুধু তাদের জন্যই ওয়াজিব, যাদের সামর্থ্য রয়েছে এবং যাদের নেসাব পরিমাণ সম্পদ আছে। তবে আল্লাহর মেহেরবানিতে অসামর্থ্যবানরাও কুরবানির সওয়াব হাসিল করতে পারে। এটি শুধু কুরবানির ক্ষেত্রেই নয়, বরং অন্যান্য আমলের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
চুল-নখ না কাটার বিধান
যারা কুরবানি করার সামর্থ্য রাখে না, তারা যদি ঈদের দিন ক্ষৌরকর্ম করে—অর্থাৎ জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার পর ক্ষৌরকার্য না করে ঈদের নামাজ পড়ে এসে ক্ষৌরকর্ম করে, তাহলে তাদের জন্য একটি কুরবানির সওয়াব দেওয়ার সুসংবাদ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। আমর বিন আস (রা.) বলেন, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন: আমাকে আজহার দিনকে ঈদ পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এটিকে আল্লাহতায়ালা সমগ্র উম্মতের জন্য ঈদ করেছেন।
এক হাদিসে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি বললেন, আমার কাছে ধার করা দুধের বকরি ছাড়া আর কিছু নেই, আমি কি কুরবানি করব? নবীজি বললেন— না। তুমি তোমার চুল, নখ, গোঁফ কাটবে, এবং নাভীর নিচের পশম পরিষ্কার করবে। এর দ্বারা তুমি আল্লাহর কাছে পূর্ণ কুরবানির সওয়াব প্রাপ্ত হবে। (সুনানে নাসায়ী, হাদিস নং ৪৩৬৫, আবু দাউদ, ২৭৮৯)
এই হাদিসের ভিত্তিতে ফকিহরা বলেন, জিলহজের চাঁদ ওঠার পর থেকে কুরবানিদাতাদের জন্য নখ, চুল, লোম না কাটা মুস্তাহাব। তবে এ হুকুম তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে যারা জিলকদের শেষে নখ-চুল কেটেছে। নখ-চুল বেশি লম্বা হয়ে গেলে কেটে ফেলতে হবে।
এ বছর ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ
এ বছর (২০২৬) ঈদুল আজহা হতে পারে ২৭ বা ২৮ মে। জিলকদ মাস ৩০ দিন পূর্ণ হলে বাংলাদেশে জিলহজ মাসের চাঁদ ১৮ মে সোমবার সন্ধ্যায় খোঁজা হবে। জিলহজ মাস শুরু হতে পারে ১৯ মে মঙ্গলবার। সে হিসেবে ১০ জিলহজ, ২৮ মে বৃহস্পতিবার দেশে হতে পারে ঈদুল আজহা। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ ২৭ মে ঈদুল আজহা পালনের ঘোষণা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর এক দিন পরই যেহেতু সাধারণত বাংলাদেশে ঈদ হয়, সে হিসেবে ২৮ মে দেশে ঈদুল আজহা পালিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
তাই যারা কুরবানি করবেন, তাদের জিলকদ মাস শেষ হওয়ার আগেই চুল, গোঁফ, অন্যান্য অযাচিত লোম ও নখ কেটে ফেলতে হবে। যাদের এখনও জরুরি ক্ষৌরকর্মের প্রয়োজন রয়েছে, তারা জিলহজের চাঁদ ওঠার আগেই তা সেরে নিন। প্রয়োজন না থাকলে করার দরকার নেই। এর পর ঈদের দিনের অপেক্ষা করুন। সেদিন এই ক্ষৌরকার্য সম্পন্ন করুন। ইনশাআল্লাহ একটি পূর্ণ কুরবানির সওয়াব পাবেন।



